কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী শিল্পী। আজ তার চলে যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো। ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করা ফরিদা পারভীন শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে তার গানের হাতেখড়ি হয়। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের বহু গুণী শিক্ষকের সান্নিধ্যে তিনি শাস্ত্রীয় ও নজরুলসংগীতে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
তবে লালন সাঁইজির আধ্যাত্মিক দর্শনে মুগ্ধ হয়ে গুরু মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে তালিম নেওয়ার পর তার কণ্ঠেই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে লালনগীতি। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ‘সত্য বল সুপথে চল’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ ও ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’র মতো অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে তিনি জাপানের ‘ফুকুওকা এশিয়ান কালচার প্রাইজ’ লাভ করেন।
