ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত

সহযোগীদের খবর

ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছাড় দেওয়ার আগ্রহ নেই জামায়াতে ইসলামীর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে লড়লেও এবার দুই দলই আলাদা মেয়র প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১১–দলীয় ঐক্যের অন্য শরিকেরাও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রার্থী দেবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রেখে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের কথা বলছেন দলগুলোর নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু ঢাকার দুই সিটি নয়, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী দিলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১–দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছিল। ঐক্যভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপি প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য শরিকদেরও যাদের সামর্থ্য আছে, তারা প্রার্থী দিতে পারে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু ঢাকার দুই সিটি নয়, সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেই এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই জোটগতভাবে ভোট ভাগাভাগির বিষয়ও নেই। ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

জামায়াতের নেতারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দলের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছেন। তাঁদের হিসাবে, এরই মধ্যে ৭০–৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তাঁরা।

জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের ঢাকা মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। সেলিম উদ্দিন ইতিমধ্যে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। সাদিক কায়েমও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

অন্যদিকে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা উত্তর সিটিতে এবং দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এনসিপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করেনি। স্থানীয় সরকারের অন্য স্তরের নির্বাচনেও এনসিপি এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

১১–দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক মাওলানা হাসান জুনাইদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে তাঁদের চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে দুজনকে চূড়ান্ত করা হবে।

ঢাকার দুই সিটিসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও এবি পার্টির প্রার্থী থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা প্রার্থী হতে চান, তাঁদের দল থেকে সমর্থন দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য স্তরগুলোতেও সক্ষমতা অনুযায়ী প্রার্থী দেওয়া হবে।

তবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী প্রথম আলোকে বলেন, সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

কেন্দ্রীয়ভাবে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকছে। ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সমঝোতা হবে না। দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নেবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করলে কেন্দ্র থেকে বাধা থাকবে না।

হামিদুর রহমান আযাদ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের চেয়ে ব্যক্তি বেশি প্রাধান্য পাবেন। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের ভোটে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।

তবে জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ কম। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা ও পরিচিতি বিবেচনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীই এগিয়ে থাকবেন।

ভোট আলাদা, রাজনৈতিক কর্মসূচি একসঙ্গে

জামায়াত ও এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে চায় দলগুলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঐক্যভুক্ত দলগুলোর প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় রাখা হবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা না হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা অটুট থাকবে। ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠের কর্মসূচি পালন করা হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে ১১–দলীয় ঐক্য একসঙ্গে তার প্রতিবাদ করবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ফেরা না ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জ: শাঁখের করাতে শেখ হাসিনা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন। তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কিনা-তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার ফেরা কিংবা না ফেরা-দুই পরিস্থিতিরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার দেশে ফেরার বিষয়ে যেসব বক্তব্য সামনে আসছে, সেগুলো আসলেই দেশে ফেরার কোনো বাস্তব প্রস্তুতির ইঙ্গিত, নাকি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা ও রাজনৈতিকভাবে চাপ তৈরির কৌশল-নানা মহলে সেই আলোচনাও ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি ও বাস্তবতায় তার দেশে ফেরার পথ সহজ নয়, বরং কঠিন। ফিরতে চাইলে বহুমুখী ঝুঁকি নিয়েই তাকে ফিরতে হবে। আবার ঘোষণা দিয়ে দেশে না ফিরলে তার ওপর দলের নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট তৈরি হবে। এতে করে মূলত তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মৃত্যু হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়; এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। এর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘোষণার মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো-৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে না পারলে ১ জানুয়ারি থেকেই তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। দলের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি এরপর তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে যে কোনো ঘোষণা দিলে সেটি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে আগের মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নাও পেতে পারে।

তাছাড়া সরকার যেখানে তাকে আইনের মুখোমুখি করতে দেশে ফিরিয়ে আনতে অনড় অবস্থানে রয়েছে, সেখানে তিনি অন্য কোনো অজুহাত হাজির করতে পারবেন না। তাছাড়া তিনিও তো বিচারের মুখোমুখি হতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা মাঝে-মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা মূলত রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’। দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার কৌশল। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান বয়স ও পরিস্থিতিতে তিনি সেই আইনি লড়াই এবং দেশের সামগ্রিক বাস্তবতা মোকাবিলা করবেন কিনা, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক স্লোগান ছাড়া আর কিছু নয়’ বলেও মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে না ফিরলে এর রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তখন তিনি হয়তো দেশে না ফেরার কারণ হিসাবে নতুন কোনো ব্যাখ্যা বা পরিস্থিতিকে সামনে আনবেন। যেমন-ট্রাভেল পাশ বা বিমান অবতরণের অনুমতিসহ নানা বিষয় হয়তো সামনে আনতে পারেন। কিন্তু এসব ব্যাখ্যা তার রাজনৈতিক অবস্থানের যে ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণ করতে পারবে না বলেও মনে করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম।

রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা না ফেরার বিষয়টি এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত। তাদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে-এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ নেই। তার মতে, শেখ হাসিনা দেশে আসবেন কিনা, সেটি মূলত তার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এটুকু বলা যায়, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হবে। তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার রায় ও এর বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মতো বাস্তব পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ইতোমধ্যে একটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। একই সঙ্গে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় তিনি দেশে ফিরলে তাকে এসব চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হবে।

এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও শেখ হাসিনার প্রশ্নে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে এক ধরনের ঐকমত্য রয়েছে। অর্থাৎ তিনি দেশে ফিরে এলে তাকে সরকার ও বিরোধী দলসহ জুলাইয়ের সব শক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে। ফলে এমন রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিন্দুমাত্র নৈতিক অবস্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। যুগান্তরকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রাণহানির ঘটনায় তার প্রথম দায়িত্ব ছিল মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও অনুশোচনা করা। কিন্তু তার বক্তব্যে এখনো বলপ্রয়োগ ও জেদের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা আবার দেশে ফিরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করবেন-এটি ‘অমাবস্যার দিনে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো একটা স্বপ্ন’।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই এখন তার উত্তরাধিকার হিসাবে শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। শেখ সেলিমের যদি সেই সৎ সাহস থাকে, তাহলে তিনি দেশে ফিরে আসুক; তাকে তো কেউ বাধা দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ। সেই নিষেধাজ্ঞার গেজেট চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটও হয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের এখতিয়ারাধীন হওয়ায় এ মুহূর্তে এ নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন।

কালের কণ্ঠ

‘বিসিএসে তিন জেলার প্রাধান্য’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আগের চেয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আরো বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন বিসিএসে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যই যেন বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া।

এ জন্য অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ হওয়ার আগে থেকে বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লাইব্রেরি এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের আগ্রহ প্রবল হলেও বিসিএস অনেকটাই ‘সোনার হরিণ’। অন্যদিকে কয়েক বছর ধরে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ও তিনটি জেলার শিক্ষার্থীদের কাছে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিসিএস।

গত দুটি বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আওয়ামী আমলের বিসিএসে বেশ কয়েকটি জেলা বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার প্রার্থীরা সর্বাধিক এগিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। উল্টো চিত্র মেয়েদের ক্ষেত্রে।

একাডেমিক পরীক্ষায় মেয়েরা ভালো করলেও বিসিএসে ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর বিসিএসের ভাইভা নিয়েছি। সেখানে দেখেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। আর বুয়েটে তো ভালো শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও একই মানের।

তবে বিজ্ঞানের বা কৃষির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা রিটেনে ভালো মার্ক পাওয়ায় এগিয়ে যায়। আর জেলার ক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা উন্নত। ময়মনসিংহ ঢাকার কাছে হওয়ায় ওই জেলারও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ঢাকায় পড়ে। আবার এই তিন জেলায় লোকসংখ্যাও বেশি। যেহেতু জনসংখ্যার অনুপাতে কোটা হয়, সে জন্য এই জেলাগুলো স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যায়। আর বিসিএসে কেন জানি মেয়েদের অংশগ্রহণ কম। অথচ তারা একাডেমিক পরীক্ষায় ভালো করে। যেহেতু শেষ পর্যন্ত মেয়েরা কম অংশ নেয়, চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণও হয় কম।’

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সূত্র জানায়, ৪৩তম বিসিএসের ফল প্রকাশ হয় ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি। ওই বিসিএসে ক্যাডার পদে মোট দুই হাজার ১৬৩ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৭৪২ জন, আর নারী মাত্র ৪২১ জন। সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবেচেয়ে বেশি ৬৬০ জন সুযোগ পেয়েছেন। এরপর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে ১৯৩ জন, বুয়েট থেকে ১৭৩ জন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৯৪ জন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৯১ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮৭ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮০ জন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ জন এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

৪৩তম বিসিএসে ময়মনসিংহ জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি ১০৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম থেকে ৯৮ জন, ঢাকা থেকে ৮২ জন, কুমিল্লার ৭৬ জন, বগুড়ার ৬৮ জন, দিনাজপুরের ৬২ জন, টাঙ্গাইলের ৬২ জন, যশোরের ৬১ জন, রাজশাহীর ৫৯ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫৬ জন, সিরাজগঞ্জের ৫৪ জন, নরসিংদীর ৫১ জন, সাতক্ষীরার ৫১ জন, রংপুরের ৫১ জন সুযোগ পেয়েছেন। বিভাগ হিসেবে সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগ থেকে ৫০ জন সুযোগ পেয়েছেন। ঢাকা বিভাগ থেকে ৪৭১ জন, রাজশাহী বিভাগ থেকে ৩২১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ৩৬৯ জন, খুলনা বিভাগ থেকে ২৯৩ জন, বরিশাল বিভাগ থেকে ১৪৯ জন, রংপুর বিভাগ থেকে ২৯৩ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ২১৭ জন সুযোগ পেয়েছেন।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘গুদামে সার আছে, তবুও কৃষক পাচ্ছেন না’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের দাবি, গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। যা দিয়ে আগামী কয়েক মাস চাহিদা মেটানো সম্ভব। একই সঙ্গে আমদানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তারপরও প্রয়োজনের সময়ে সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আবার কোথাও ডিলারের গুদামে সার না থাকার কথা বলা হলেও পরে সেই সার অন্যত্র বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে।

এ নিয়ে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও এবং সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন। কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছে, ডিলারের গুদামের দরজা ও বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গত ১০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারের দাবিতে অন্তত ১৫টি পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হয়ে সার উত্তোলন ও বিতরণে অসহযোগিতা করেছেন। আবার মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে, ডিলারদের একাংশের নিয়ন্ত্রণ, খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি এবং স্থানীয়ভাবে সার আটকে রাখার কারণে কৃষকের কাছে প্রয়োজনের সময় সার পৌঁছাচ্ছে না।

এক মাসে যত বিক্ষোভ

১০ আগস্ট লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েক হাজার কৃষক। ১২ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সার সংকটের প্রতিবাদে রহনপুর ইউনিয়নের শত শত কৃষক উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করেন।

২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও না পেয়ে কৃষকরা এক ডিলারের গুদামে ঢুকে সার নিয়ে যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ওই ডিলারের নামে ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল; এর মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

৩০ আগস্ট দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনে সার নিয়ে সিন্ডিকেট দূর করা, প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ ও সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন হয়। ৩১ আগস্ট রংপুরের মিঠাপুকুরে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, সংকটের স্থায়ী সমাধান ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন হয়। একই দিন রংপুর নগরীর খামার মোড়েও সার নিয়ে কর্মসূচি হয়।

২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট বাজারে সার না পাওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। ৫ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকুপার গাড়াগঞ্জে রাসায়নিক সার না পেয়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। পরদিন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারে প্রায় ২০০ কৃষক সার পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ডিলারের লোকজন সময়মতো না আসায় কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন।

৭ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কুড়িগ্রামের রৌমারীর বন্দবেড় বাজারে সার নিতে ভোর থেকে অপেক্ষা করেন কৃষকরা। বিতরণে দেরি হওয়ায় গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ডিলারের দাবি, প্রায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই দিন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করেন এবং এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই দিন রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে প্রায় ৩০০ কৃষক পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও খুচরা বাজারের কথিত সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। লালমনিরহাটেও একই দিনে সার সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা।

কৃষকের হাতে নেই কেন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১২ লাখ ২২ হাজার টন সার মজুত ছিল। এর মধ্যে ইউরিয়া চার লাখ ২৭ হাজার, ডিএপি তিন লাখ ৩২ হাজার, এমওপি এক লাখ ১৭ হাজার এবং টিএসপি তিন লাখ ৫২ হাজার টন। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সারের চাহিদা ও সম্ভাব্য সরবরাহের হিসাবও করেছে মন্ত্রণালয়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার ধরনের সারের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৪০ লাখ ২৯ হাজার টন। বিপরীতে সম্ভাব্য সরবরাহ ৫৩ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৪২ হাজার টন বেশি সার সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ে ইউরিয়ার চাহিদা ১৭ লাখ ২২ হাজার টন, বিপরীতে সরবরাহের সম্ভাবনা ২০ লাখ সাত হাজার টন। ডিএপির চাহিদা ১১ লাখ ২৩ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টন। এমওপির চাহিদা ছয় লাখ ৬৯ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ১০ লাখ ৮২ হাজার এবং টিএসপির চাহিদা পাঁচ লাখ ১৫ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ৯ লাখ ৩২ হাজার টন। বর্তমানে আমদানি করা প্রায় চার লাখ ৫৯ হাজার টন সার পরিবহনাধীন। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে আমদানি ও বেসরকারি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আরও ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার টন। কৃষকরা বলছেন, সরকার সংকট নেই বলে জানালেও প্রয়োজনের সময় ডিলারের দোকানে সার পাওয়া যায় না।

সার বিতরণ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ডিলারদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আগের ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়নে একজন প্রধান ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ হতো। সেই ডিলারের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা সার নিয়ে কৃষকের কাছে বিক্রি করতেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় কোনো কোনো এলাকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ফলে একটি এলাকায় সার সরবরাহের ওপর অল্প কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়।

বিগত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সম্পর্কিত ডিলারদের নিয়েও একটি আলাদা কাঠামো ছিল। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।

বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নতুন ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা করেছে। নতুন ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়নে একাধিক ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতা রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে আগের একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে– এমনটাই সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন দ্বন্দ্ব। পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ নতুন ব্যবস্থায় তাদের একচেটিয়া ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বাজারে ঢোকার সুযোগ পাওয়ায় পুরোনোদের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে দেরি হওয়া এবং পুরোনো ডিলারদের একটি অংশের অসহযোগিতার কারণে কয়েকটি জেলায় বরাদ্দ করা সার পুরোপুরি উত্তোলন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানে জুলাই ও আগস্টে কয়েকটি জেলার ডিলারদের বরাদ্দের তুলনায় কম সার উত্তোলনের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে সূত্রটির দাবি।

এই বিষয়ে ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। চারজন জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং আরও চারজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কুড়িগ্রাম অঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সার ডিলার বলেছেন, প্রভাবশালী একটি মহল সার বিতরণ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করছে। গুদামে সার আসার পর নির্দিষ্ট সংখ্যক বস্তা ওই মহলকে দিতে হয়। পরে তারা বেশি দামে সার বিক্রি করে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি সার দেওয়া হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তিনি জানান, নতুন বা যেসব খুচরা বিক্রেতা এখনও পুরোপুরি কার্যক্রমে আসেননি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদেরও কিছু পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত সার আনার চেষ্টা চলছে। এর পরও স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা থেকে যাচ্ছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান মনে করেন, গুদামে সার থাকা আর কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো এক বিষয় নয়। সরকার যদি বলে মজুত আছে, তাহলে বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা কোথায়– তা চিহ্নিত করতে হবে। কারণ, সার বিতরণের প্রতিটি ধাপ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষক যদি ডিলারের গুদাম থেকে সার না পেয়ে পরে খোলাবাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন, তাহলে শুধু জাতীয় মজুতের হিসাব দিয়ে সংকটের দায় এড়ানো যায় না।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাফের প্রধান শিরোনাম ‘পরিবহন শ্রমিকদের এসব নৃশংসতার শেষ কোথায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কখনো কোনো নারী, তরুণী বা কিশোরীকে বাসে একা পেয়ে ধর্ষণ করছে। কখনো ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ ফেলে দিচ্ছে নির্জন স্থানে। কখনো অর্থের লোভে নিরীহ যাত্রীকে ছুরিকাঘাতে বা পিটিয়ে আহত করে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে অথবা ভাড়া নিয়ে বচসার জের ধরে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছে। বিস্তৃত মাত্রায় না হলেও অনেক দিন ধরেই পরিবহন শ্রমিকদের এই ধরণের অপরাধ প্রবণতা চলে আসছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই অপরাধ প্রবণতা বন্ধ করবে কে?

পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, গণপরিবহনে বর্তমানে ৭০ লাখ শ্রমিক রয়েছেন। এতো বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের মধ্যে কে ভালো বা কে মন্দ-এটা যাচাইয়ের ক্ষমতা তাদের কেন, প্রশাসনেরও নেই। তারা অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন ও স্বল্প শিক্ষিত এসব শ্রমিক নিয়ে কাজ করছেন। এদের মধ্যেই কেউ কেউ গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তারা বলছেন, অনেক পরিবহন শ্রমিক নেশাগ্রস্থ। বিনোদনের সুযোগ না থাকায় তারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। পরিবহন মালিক সমিতিগুলো চেষ্টা করছে শ্রমিকদের সচেতন করতে। কোনো পরিবহন মালিকই চান না কোনো ধর্ষণকারী বা মাদকাসক্ত ব্যক্তির হাতে গাড়ির চাবি তুলে দিতে।

গত ১৫ জানুয়ারি মধ্য রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় বাসের চালক, হেলপারসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। বাসের অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে তারা। ২০২২ সালের ৩ আগস্ট একই মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে চলন্ত বাসে একা পেয়ে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে। ওই ঘটনায় বাসের চালক, হেলপারসহ তিনজনকে মৃত্যুদ্ল দিয়েছিল টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলকে বাস থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়।

পায়েল চট্টগ্রাম থেকে একটি বাসে ঢাকায় আসছিলেন। বাসের চালক ও দুই সহকারী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। একই বছরের ৮ এপ্রিল ঢাকার কাছে ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন তৈরি পোশাক শিল্পের এক শ্রমিক। রাত ২টার দিকে বাসের চালক, হেলপারসহ আরো তিনজন তাকে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে বাসের ভেতর হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে। জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা ভিকটিমের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এ হত্যাকা্ল ঘটায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত। এ ঘটনায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে বাসের চালক সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

কেন অপরাধপ্রবণ মন: মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজে যখন অস্থিরতা বেড়ে যায়, নৈতিকতার অবক্ষয় হয় তখন অপরাধ প্রবণতাও বেড়ে যায়। আবার কারো কারো মধ্যে অপরাধ করার একটা প্রবণতা থাকে। যারা মাদকাসক্ত তাদের মধ্যেও অনেকে অপরাধ সংঘটনে উত্সাহিত হন। মাদক মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করে দেয়। আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি তো রয়েছেই।

শ্রমিকদের বেশিরভাগই নেশাগ্রস্থ: বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর খান ইত্তেফাককে বলেন, গণপরিবহন শ্রমিকদের বেশিরভাগই নেশাগ্রস্থ। এরা যা খুশি তাই করতে পারে। কিছু পরিবহন শ্রমিক আছে যারা রাতে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে লিপ্ত থাকে। তিনি বলেন, রাত দশটার পর পণ্য পরিবহনকারী দূরপাল্লার ট্রাক-কাভার্ডভ্যানগুলো চলাচল শুরু করে। তখন সড়কগুলো আরো বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই সময়টাতেই অপরাধগুলো সংঘটিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, একজন চালক সারাদিন গণপরিবহন চালায়। যেখানে গাড়িগুলো পার্কিং করা থাকে সেই পরিবেশও বেশ ঝুকিপূর্ণ। এদের কোনো বিনোদনেরও ব্যবস্থা নেই। ফলে শ্রমিকদের মন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। এটা নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলেই সুফল মিলবে। তিনি বলেন, ‘শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় ডোপ টেস্টের বিধান রয়েছে। আমি মনে করি সড়ক-মহাসড়কে মাদকাসক্ত পরিবহন শ্রমিকদের চিহ্নিত করতে সবসময় ডোপ টেস্টের প্রক্রিয়া চালু করা উচিত।’

নয়া দিগন্ত

‘আইন প্রণয়নে সেই চেনা তাড়াহুড়া’—এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত তৃতীয় অধিবেশনটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন গণতান্ত্রিক কাঠামোর অধীনে গঠিত এই সংসদের তৃতীয় অধিবেশনটি ৯ কার্যদিবসের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য চললেও এর গভীরতা ও পাস হওয়া বিলগুলোর গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। এই অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুশাসন, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী বার্তা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ দুই নেতার দীর্ঘ বক্তব্য দেশের আগামী রাজনীতির জন্য এক নতুন বার্তা দিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সংসদ কি সত্যিই দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে, নাকি এর কার্যকারিতা কেবলই আইন পাসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল?

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের সমাপনী দিনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, জাতীয় ঐক্য এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সব রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের গালিগালাজ এবং অবমাননাকর ভাষা পরিহার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু কাদা ছোড়াছুড়ি ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শিষ্টাচারই সুস্থ রাজনীতির ভিত্তি। দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ব্যক্তি বা দলের চেয়ে দেশ বড়। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘বাংলাদেশ প্রথম’। সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংসদকে কার্যকর রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে বড় মঞ্চ হলো এই সংসদ। আমরা সংসদকে সব রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং মেধার মূল্যায়নের বিষয়ে সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। একই সাথে তিনি গঠনমূলক বিরোধিতার এক নতুন ধারার কথা উল্লেখ করেন। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুর্নীতিরোধকে প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির লাগাম যদি এখনই টেনে ধরা না যায়, তবে কোনো মেগা প্রজেক্ট বা উন্নয়ন পরিকল্পনাই দেশের মানুষের কাজে আসবে না। দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। চাকরিতে স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে

তিনি বলেন, চাকরিতে কোনো দলীয় আনুকূল্য বা অন্যায্য কোটা মেনে নেয়া হবে না। সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যোগ্য তরুণরা দেশের সেবায় এগিয়ে আসতে পারে। গতানুগতিক অন্ধ বিরোধিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করতে আসিনি। সরকারের ভালো কাজের পাশে আমরা ইতিবাচকভাবে দাঁড়াব। কিন্তু সরকারের ভুলত্রুটি হলে আমরা যেমন গঠনমূলক সমালোচনা করব, তেমনি জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলে প্রয়োজনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলব। ভঙ্গুর অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সঙ্কট নিরসনে সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জনদুর্ভোগ লাঘব করাই এই মুহূর্তে প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন বাঁকের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে সংসদ নেতার মুখে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ঐক্যের ডাক, অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে অন্ধ বিরোধিতা পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা। সব মিলিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংসদের প্রত্যাশা করছে। এখন দেখার বিষয়, উভয় পক্ষ মাঠের রাজনীতিতে এই বক্তব্যের কতটা প্রতিফলন ঘটায়।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আতঙ্ক কমেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছুটা স্বস্তি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খাতসংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, প্রাথমিক স্বস্তিকে স্থায়ী সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ আস্থা ধরে রাখতে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

শরিয়াহভিত্তিক দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গড়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু থেকেই ছিল উদ্বেগ। দীর্ঘদিন আমানত ফেরত না পাওয়া, তারল্য সংকট ও দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কারণে গ্রাহকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল আস্থাহীনতা। ফলে কার্যক্রম শুরুর পর আমানত উত্তোলনে বড় চাপ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল। তবে কার্যক্রম শুরুর পর দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। আমানত উত্তোলনের চাপ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। প্রতিদিন যে অর্থের সংস্থান রাখা হচ্ছে, গ্রাহকরা তার অর্ধেকও তুলছেন না। বরং নতুন করে আমানত রাখতে আসছেন অনেকে। এতে স্বস্তি ফিরেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুনর্গঠিত ব্যাংকের প্রথম পরীক্ষা ছিল আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সে পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল মিলছে। অর্থ উত্তোলনের চাপ কম থাকা এবং নতুন আমানত আসা তারই প্রতিফলন। তবে এ স্বস্তি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন করে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা ও আমানতকারীদের আস্থা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার ওপরই নির্ভর করবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার। কারণ একীভূত হওয়ার আগে ব্যাংকটির সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা ও তারল্য সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে আমানত ফেরত পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছিল। ফলে নতুন ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরুর পর গ্রাহকরা একযোগে আমানত তুলে নিতে এলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু আমরা ভিন্ন এক পরিস্থিতি দেখছি।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল জানিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একসঙ্গে ৫ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। কার্যক্রম শুরুর পর যাতে ব্যাংকটি সংকটে না পড়ে, সে জন্য অর্থের সংস্থান ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখতে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াকে আনা হয়েছে একটি কাঠামোর মধ্যে। এরই মধ্যে গ্রাহকদের প্রত্যাশার তুলনায় আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় সে ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কিছুটা কমেছে।’

একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদার। বাকি চারটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের হাতে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। এতে আর্থিক সংকট তৈরি হলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ও দৈনন্দিন লেনদেন পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত বছরের ডিসেম্বরে শরিয়াহভিত্তিক এ ব্যাংকগুলো নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে পরিশোধিত মূলধন ধরা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারই ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দেয়। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেয়া হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আজকের পত্রিকা

‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ল’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূল-জুড়ে প্রায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা। ইরানপন্থী হুতি বাহিনীর যোদ্ধারা গতকাল শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ দখল করে। লোহিত সাগরের বন্দরগুলো থেকে সংকীর্ণ এ প্রণালী দিয়েই সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

হুতিদের এই তৎপরতার মাধ্যমে হরমুজের পর বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা বৃদ্ধির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। যদিও হুতিদের দাবি, কেবল সৌদি আরব ছাড়া বাব আল-মান্দেব সবার জন্য উন্মুক্ত। সৌদি আরব ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে একটি জোট তৈরি করে কয়েক বছর ধরে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছে।

বৈশ্বিক নৌ পরিবহনের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হচ্ছে হরমুজ প্রণালি, সুয়েজ খাল ও বাব আল-মান্দেব। স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানির ২৭ শতাংশ ও এলএনজির ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। সুয়েজ খাল দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ এবং এলএনজি বাণিজ্যের অন্তত আট শতাংশ পরিবহন হয়। আর বাব আল-মান্দেব দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১১ শতাংশ আর এলএনজির আট শতাংশ পরিবহন হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানা যায়, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারেরই চার কর্মকর্তা বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপে হুতিরা পৌঁছে গেছে। এর আগে দুই সরকারি কর্মকর্তা জানান, পেরিম দ্বীপের মুখোমুখি থাকা ধুবাব নগর হুতিদের দখলে গেছে এবং পেরিম দ্বীপ থেকে সরকারি বাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ নগর বন্দর মোখার দখল নিয়েছে হুতিরা।

সৌদি আরবের পূর্বদিকে থাকা লোহিত সাগর থেকে আরব সাগরে পড়ার একমাত্র জলপথ বাব আল-মান্দেব। দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথ। এটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ইউরোপে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একটি বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করে। এর আগে যখন হুতিরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা চালিয়েছিল, তখন সেখানে নৌ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বাব আল-মান্দেবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা হলে বৈশ্বিকভাবে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েও জ্বালানি তেলের পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যেই ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানির বাজার অস্থিতিশীল। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আখেরে সুবিধাজনক অবস্থায় যেতে পারে ইরান।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) গতকাল পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এ বছর বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ও চাহিদা উভয়েই আগের ধারণার চেয়ে কমে যেতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।

দেশ রূপান্তর

দৈনক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘৯০ শতাংশ সরকারি গাড়ির আয়ু শেষ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত সরকারি গাড়ির ৯০ শতাংশই আয়ুষ্কাল বা লাইফটাইম হারিয়েছে। পরিবহন পুল হিসেবে পরিচিত সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের অধীনে থাকা গাড়ির সংখ্যা বর্তমানে ২ হাজার ৬০টি। এসব গাড়ির বেশিরভাগই ১৫ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি পুরনো। গাড়িগুলোর বডি ও ইঞ্জিন দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারপরও সেগুলোই মেরামত করে সচল রাখা হয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর কয়েকশত কোটি টাকা সরকারের বাড়তি ব্যয় বা অপচয় হচ্ছে। অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১২-১৩ সালের পর আর কোনো গাড়ি ক্রয় করা হয়নি।

পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) রাজা মুহম্মদ আব্দুল হাই দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিগগিরই আমরা গাড়ি ক্রয়ের অনুরোধপত্র উপরে পাঠাবো। পুরনো গাড়ির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, মেইনটেন্যান্স কস্ট (গাড়ির ব্যবস্থাপনা ব্যয়) বর্তমানে একটু বেশিই হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গাড়ির বয়স ১০ বছর অতিক্রম করলে গাড়ির কন্ডিশন বা অবস্থা বিবেচনায় প্রতিস্থাপন করা যায়। তবে, এটিই একটি গাড়ির চূড়ান্ত আয়ুষ্কাল নয়। এটি নির্ভর করে গাড়ির ব্যবহার ও মেইনটেন্যান্স, দুর্ঘটনা বা অগ্নিকান্ডজনিত ক্ষতির ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি কাজে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত গাড়ি ও নৌযানের সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কোনো দপ্তরে নেই। পরিবহন পুলের কাছে যে হিসাব রয়েছে তা সরকারের সব গাড়ির মোট হিসাবকে প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ, টেবিল অব অরগানাইজেশন অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট (টিওঅ্যান্ডই) অনুযায়ী প্রত্যেক মন্ত্রণালয় বা অধীনস্থ সংস্থা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ আয় বা বাজেট বরাদ্দ থেকে গাড়িসহ প্রয়োজনীয় সব ক্রয় করার সুবিধা পায়। ওইসব গাড়ির হিসাব পরিবহন পুলে নেই। এর বাইরে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প বা এডিপির আওতাধীন ক্রয় করা কয়েকশত গাড়ির হিসাবও পরিবহন পুলে নেই। এই দুই ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গাড়ির তথ্য চেয়েও পায় না সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর।

টিওঅ্যান্ডইর আওতায় ক্রয় করা গাড়ির তথ্য নেই পরিবহন পুলে: কোনো মন্ত্রণালয় বা অধীনস্থ দপ্তর কিংবা কোনো বিভাগ ও সংস্থা কোনো গাড়ি ক্রয় করলে তার তথ্য যানবাহন অধিদপ্তরকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্ত তা প্রতিপালন করা হয় না। যানবাহন অধিদপ্তর চিঠি দিয়ে ওই তথ্য চেয়েও পায় না। অথচ, হিসাবের বাইরে ওইসব গাড়ির তেল ও মেরামত খরচ পরিশোধ করে যানবাহন অধিদপ্তর। রাজধানীতে একটি কেন্দ্রীয় পুল ছাড়াও জেলা এবং উপজেলায় পরিবহন পুল থেকে ওই সুবিধা দেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি গাড়ি মেরামতের প্রয়োজন হলে তা পরিবহন পুলেই করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাড়ি মেরামতের কাজ পরিবহন পুলে করা সম্ভব না হলে সেখান থেকে ক্লিয়ারেন্স ও সম্ভাব্য ব্যয়ের চাহিদাপত্র নিয়ে অন্যত্র মেরামত করা যাবে। যানবাহন অধিদপ্তর সরকারি গাড়ি মেরামতের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করতে পারে। এর বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের গাড়ি: এদিকে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের গাড়ি সরবরাহ করলেও সংসদ সদস্যদের গাড়ির হিসাব পরিবহন পুল সংরক্ষণ করে না। কারণ, এমপিরা শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে নিজেরাই গাড়ি ক্রয় করে ব্যবহার করতে পারে। পরিবহন পুল থেকে এমপিদের গাড়ি দেওয়া হয় না। পুলিশ, সেনা, নৌ, বিজিবি, র‌্যাব, ফায়ারসার্ভিসসহ সব বিশেষায়িত বাহিনী টিওঅ্যান্ডই অনুযায়ী বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থব্যয় করে গাড়ি কিনে নিতে পারে।

সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) তানভীর আযম সিদ্দিকী জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজে যে গাড়ি ব্যবহার করছেন তা আমাদের (পরিবহন পুলের) নয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিজস্ব পরিবহন পুল রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পের গাড়ির হিসাব প্রকাশ করা হয়নি: অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রকল্পের গাড়ির হিসাব নেওয়া হবে বলে জানান। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে জানানো হয় যে, প্রকল্প শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে গাড়ির সংখ্যা ও অবস্থা সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রকল্প শেষের ৬০ দিনের মধ্যে গাড়ি সরকারি পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে সংবাদ মাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছিলেন, মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমাপ্ত প্রকল্পের গাড়ির হিসাব দিয়েছে। কিন্ত পরে আর সেই হিসাব প্রকাশ করেনি অন্তর্বর্তী সরকার।

গাড়ির চাহিদা ও ঋণসুবিধা: আগে সরকারের কর্মকর্তাদের পরিবহন পুল থেকেই সরাসরি মন্ত্রণালয়, অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থার রিকুইজিশনের ভিত্তিতে গাড়ি সুবিধা দেওয়া হতো। ২০১৭ সালে মার্চে সরকার এক নীতিমালার মাধ্যমে সরকারের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের গাড়িক্রয় বাবদ সুদবিহীন ৩০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া শুরু করে। একইসঙ্গে তাদের গাড়ি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দও দেয় সরকার। ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে ২ হাজার ৩৫৭ কর্মকর্তা ওই ঋণসুবিধা পায়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও ওই সুবিধা অব্যাহত ছিল। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬- এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২৬ উপসচিব ওই ঋণসুবিধা নেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই ঋণসুবিধা স্থগিত করে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে চাহিদা থাকলেও অধিকাংশ গাড়ি মেরামতের জন্য কারখানায় থাকার ফলে সব সময় গাড়ি সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘সংকটেও বন্ধ ৩৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় গ্রাহকের ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। গ্যাস-কয়লার সংকটে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টাও করছে। তবে এ সংকটজনক পরিস্থিতিতেও দেশের ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ আছে। জ্বালানিসংকট, মেয়াদ শেষ হওয়া ও যান্ত্রিক ত্রুটিই এর প্রধান কারণ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার সময়মতো মেয়াদোত্তীর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কাজগুলো সম্পন্ন না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যে এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর অনুসন্ধানে বিষয়টি জানা যায়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি ২৩ আর বেসরকারি ১৪টি। জ্বালানিসংকটের কারণে বর্তমানে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন। এ ক্ষেত্রে ২০ সেপ্টেম্বরের পর কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানির অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ আছে। সেগুলো ঠিক করতে নিশ্চয়ই কাজ চলছে। জ্বালানির অভাবে পায়রায় একটি ও রামপালে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি বিশেষ করে কয়লার অভাবটা ঠিক গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের উচিত কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এটা করা সম্ভব। কয়লার অভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ চালু করা যাচ্ছে না, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি এক্সপায়ার হয়ে গেছে সেগুলো মূলত তেলভিত্তিক কেন্দ্র। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালু করবে। অনেকটি জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে আছে, টাকাপয়সা দেওয়া হয়নি প্রাইভেট সেক্টরকে। সেগুলো এখন কিছু টাকা পরিশোধ করে উৎপাদনে আনার চেষ্টা করছে সরকার।’

সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। মূলত জ্বালানিসংকট, বেশ কিছু কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বর্তমানে ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ আছে। আবার জ্বালানিসংকটের কারণে চালু থাকা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কেন্দ্রের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে। বৃহস্পতিবার বিকালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট।