ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। শিশুসাহিত্যের সকল শাখায় যার ছিল অবাধ বিচরণ। এর বাইরেও তিনি ছিলেন সংগঠক, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা। সব পরিচয় ছাপিয়ে প্রাণময় এক আড্ডাবাজ হিসেবে খ্যাত সকল মহলে। বলছিলাম আমীরুল ইসলামের কথা। হাস্যরসিক, বইপাগল, চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাত ১টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। দীর্ঘদিন কিডনিসহ নানা শারীরিক জটিল রোগে ভুগছিলেন শিশু সাহিত্যের এই বরপুত্র।
শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের জন্ম ৭ই এপ্রিল ১৯৬৪, লালবাগ, ঢাকায়। পিতা প্রয়াত সাইফুর রহমান। মাতা প্রয়াত আনজিরা খাতুন। পিতৃব্য প্রয়াত কবি হাবীবুর রহমান, খ্যাতনামা শিশুসাহিত্যিক।
আমীরুল ইসলাম ২০০৬ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। সবচেয়ে কম বয়সে খামখেয়ালি ছড়াগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রবর্তিত অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার। পরে এই পুরস্কার পেয়েছেন আরও পাঁচবার।
এ ছাড়াও পেয়েছেন সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৪, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০০৩, পদক্ষেপ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৫, ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার ২০০৭, ছোটদের মেলা পুরস্কার ২০০৯/১০/১১, জাতীয় ছড়া উৎসব সম্মাননা ২০১১, শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার ২০১১, ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল পুনর্মিলনী সম্মাননা ২০১১, লাটাই ছড়াসাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, কবি হাবীবুর রহমান স্মৃতি পুরস্কার ২০১৩, মোহাম্মদ নাসির আলী স্মৃতিপদক ২০১৭। কিশোর থিয়েটার আজীবন সম্মাননা ২০১৮। পাঞ্জেরী-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০২১, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২৩, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ কর্তৃক সম্মাননা, লেখিকা সংঘ পুরস্কার ২০২৪। কলকাতা থেকে অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কার ২০১২। ঢাকা ব্যাংক আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-সহ অসংখ্য সম্মাননা। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের উৎকর্ষধর্মী মাসিক ‘আসন্ন’ দশ বছর সম্পাদনা করেছেন। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার প্রথম চাররঙা কিশোরদের পাতা সম্পাদনা করেছেন ছয় বছর। শুরু থেকেই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থাপনা সদস্য ছিলেন।
আমীরুল ইসলামকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বাদ জুমা তার প্রিয় কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দ্বিতীয় জানাজা, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ আসর মিরপুরের গোলারটেক মসজিদে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে তার ইচ্ছা অনুযায়ী মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে শায়িত হন চিরকুমার এই লেখক।
