মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের নতুন ক্ষমার আবেদনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিলিয়ন ডলারের বহুল আলোচিত '১এমডিবি' আর্থিক কেলেঙ্কারিতে দণ্ডপ্রাপ্ত এই প্রভাবশালী নেতাকে রাজকীয় ক্ষমার আওতায় আনা হবে কি না—তা নিয়ে ক্ষমতাসীন জোট থেকে শুরু করে সর্বস্তরের রাজনীতির মাঠে চলছে জোর গুঞ্জন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স সহ দেশটির প্রথমসারীর গণমাধ্যমেগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি দেশটির বর্তমান রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ক্ষমার বোর্ডের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ৬৫ জন বন্দিকে ক্ষমা করা হলেও নাজিব রাজাকের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী বৈঠক পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজা।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আইনি বিষয়ক বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম দি এজ। মালয়েশিয়ার বহুল আলোচিত রাষ্ট্রীয় তহবিল '১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ' (১এমডিবি) কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন নাজিব রাজাক। বিচারিক প্রসেসে তার বিরুদ্ধে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের জটিল আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাজিব নিজেকে বলির পাঁঠা হিসেবে দাবি করে আসছেন।
এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন রাজার নেতৃত্বাধীন ক্ষমার বোর্ড নাজিবের প্রাথমিক ১২ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে অর্ধেক করে এবং জরিমানার পরিমাণ হ্রাস করে। এরপর গত বছরের শেষ দিকে ক্ষমতা অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অপর এক মামলায় তাকে নতুন করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২.৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনি আপিল করেছেন। নাজিবের এই ক্ষমার আবেদন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বহুদলীয় জোটে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। জেলে থাকা সত্ত্বেও নাজিব তার দল 'ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন' (ইউএমএনও)-এ অত্যন্ত প্রভাবশালী।
দলটি বর্তমানে আনোয়ার ইব্রাহিম সরকারের শরিক দল হিসেবে রয়েছে। সম্প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের মূল জোট 'পাকাতান হারাপান' দুর্নীতিবাজদের পূর্ণ মেয়াদে সাজা ভোগের পক্ষে মতামত দিলে 'ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন' (ইউএমএনও) প্রকাশ্যে তার কড়া সমালোচনা করে, যা ক্ষমতাসীন জোটের অভ্যন্তরে চলমান টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে ক্ষমতাসীন আনোয়ার ইব্রাহিমের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে থাকা মন্ত্রী এবং ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন' (ইউএমএনও) তথা বারিশান ন্যাশনাল (বিএন) এর প্রেসিডেন্ট, যার নেতৃত্বে সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে একতরফা জয়ে এগিয়ে থাকা জাহিদ হামিদিও তাকিয়ে আছেন রাজার ক্ষমার সুসংবাদের জন্য। যিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেসে থাকা তুখোড় রাজনীতিবিদ। এই পরিস্থিতিতে যদি রাজার নি:শর্ত ক্ষমা এবং মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ফিরতে পারে তবে জয়ের শিকে ছিড়তে পারে রাজকীয় ক্ষমা পাওয়া নাজিব রাজাকের কপালে। এমনই ভাবনায় চাঞ্চল্য ফিরছে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে বলে জানিয়েছে, স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।
