আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে দেশের ক্রিকেটারদের যত বেশি সম্ভব ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ (ডিপিএল) এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। ২০২৬-২৭ মৌসুমের ডিপিএল আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৭ থেকে ১৪ই মার্চ পর্যন্ত থাকবে এক সপ্তাহের বিরতি। আগের আসরটি হয়েছিল মে-জুনে। বৃষ্টির কারণে ৬৬ ম্যাচের মধ্যে অন্তত ২৬টি ম্যাচ বিঘ্নিত হওয়ায় এবার আর বর্ষার কাছাকাছি সময়ে টুর্নামেন্ট রাখতে চায় না সিসিডিএম। এর সঙ্গে রয়েছে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ভাবনাও। আগামী বছর ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর আফ্রিকায় বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান অনুযায়ী সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার পথে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের ওয়ানডে সূচিও খুব বেশি ব্যস্ত নয়।
আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে অন্তত দুটি ম্যাচ নিশ্চিত, ফাইনালে উঠলে হতে পারে তিনটি। এরপর ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে রয়েছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ২০২৭ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের আর কোনো ওয়ানডে বর্তমানে নির্ধারিত নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের একটি ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের আলোচনা থাকলেও সেটিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপের আগে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ছন্দে রাখার বড় মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে ডিপিএল। সিসিডিএম চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন চৌধুরীর, ‘গত বছর প্রবল বৃষ্টিতে অনেক ম্যাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বড় আর্থিক ক্ষতি হয়, ক্লাবগুলোও ভোগে।
তাই আমরা আর লীগকে বর্ষার মধ্যে নিয়ে যেতে চাই না।’ ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের সময়টাকে বেছে নেয়ার আরেকটি কারণ জাতীয় দলের সূচি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুধু দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রয়েছে বাংলাদেশের। ফলে ডিপিএলের বড় অংশেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে শুধু সময়সূচি নয়, প্রতিযোগিতার মান বাড়াতেও কিছু পরিবর্তনের কথা ভাবছে সিসিডিএম। গত তিন মৌসুম ধরে ডিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটার খেলেননি। এবার আবারও বিদেশি ক্রিকেটার ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে চায় কর্তৃপক্ষ। সিসিডিএম চেয়ারম্যান জানান, ১২ দলের প্রত্যেকটিতে একজন করে বিদেশি ক্রিকেটার রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ পদ্ধতিও ফেরানোর চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে দলগুলো আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোয়াড গড়তে পারে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে ভালো উইকেট ও ভেন্যুর ব্যবস্থার দিকেও নজর দিচ্ছে সিসিডিএম। প্রাথমিক পরিকল্পনায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, বিকেএসপির দুই, তিন ও চার নম্বর মাঠ, ক্রিকেটার্স একাডেমি এবং বসুন্ধরা সিটি ক্রিকেট কমপ্লেক্সে ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ভর করবে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির বরাদ্দের ওপর।
