জাতীয় দলে ফিরতে হাল ছাড়ছেন না কাজেম

জাতীয় দলে ফিরতে হাল ছাড়ছেন না কাজেম

ফন্ট সাইজ:

সদ্য বিয়ে করেছেন। বিয়ের রেস কাটতে না কাটতেই যোগ দিয়েছিলেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। অনুশীলন করেছিলেন নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে। দারুণ ছন্দে ছিলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে গোলও পেয়েছেন। কিন্তু তারপরেও কোচ তাকে আশিয়ান কাপের ২৬ জনের দলে জায়গা দেননি। লেফটব্যাকে জায়ান আহমেদ ও সাদ উদ্দিনকে সুযোগ দিতে গিয়ে কাজেমকে ছেঁটে ফেলেছেন বাংলাদেশ দলের জার্মান ডুলি। হতাশা থাকলেও কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান এই ফুটবলার। নতুন মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়ে নিজেকে আরও প্রমাণ করার লক্ষ্য তার। জাতীয় দলে ফেরার পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবলে নিজের প্রথম শিরোপা জেতার স্বপ্নও দেখছেন কাজেম।

লীগ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় একপ্রকার ফুটবলের বাইরে ছিলেন কাজেম শাহ। বিরতির এই ফাকে বিয়ে করেছেন। নতুন মৌসুমে আবাহনী লিমিটেড ছেড়ে যোগ দিয়েছেন পাঁচ বারের লীগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসে। ক্যাম্পে যোগদিয়ে অন্যদেরমতো ফিটনেস নিয়ে কাজ করছিলেন কাজেম শাহ। ধীরে ধীরে ফিটনেস ফিরেও পাচ্ছিলেন। প্রস্ততি ম্যাচেও ভালো করেছেন। এরপরে বাদ পরার কারণ বুঝতে পারছেন না জানিয়ে কাজেম বলেন, ‘ক্যাম্পটা অনেকটা প্রাক-মৌসুমের মতো ছিল। দিনে দুই বেলা অনুশীলন হয়েছে, কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তারপরেও কেন বাদ পরলাম জানিনা। একজন্য অবশ্যই কিছুটা হতাশ। তবে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি এবং এখন সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’ হাভিয়ের কাবরেরা ও নতুন কোচ থমাস ডুলির মধ্যে পার্থক্য কেমন দেখেছেন জানিয়ে এই লেফটব্যাক বলেন’ দুজনেরই আলাদা ফুটবল-দর্শন ও কৌশল আছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাই না। কারণ প্রত্যেক কোচের নিজস্ব পরিকল্পনা ও কৌশল থাকে। ব্যক্তি হিসেবে দুজনই ভালো মানুষ এবং দুজনের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক ছিল।

হয়তো সবসময় তাদের পরিকল্পনায় খেলার সুযোগ পাইনি, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি তাদের দুজনকেই সম্মান করি।’ কাজেম শাহের জন্ম ১৯৯৮ সালে, ঢাকায়। তবে শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে কানাডায়। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে দেশ ছেড়ে চলে যান এডমন্টনে। ফুটবলে হাতেখড়ি সেখানেই। স্কুল, কলেজ ও একাডেমি পর্যায়ে নিয়মিত খেলেছেন। ইউনিভার্সিটি অফ আলবার্টার হয়ে কলেজ ফুটবলেও নাম ছিল পরিচিত। তার বাবা সৈয়দ হালিম শাহ নব্বই দশকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। সুতরাং খেলাধুলার পরিবেশ পরিবারে আগে থেকেই ছিল। সেই অনুপ্রেরণাই ফুটবলে পেশাদার হওয়ার পথে তাকে এগিয়ে নেয়। এপর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে চার ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন কাজেম। বদলি নেমেছেন একাধিক ম্যাচে। আসিয়ান কাপেও থাকতে চেয়েছিলেন দলে। তবে কোচ তাকে না রাখলেও সতীর্থদের শুভ কামনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আামাদের দল দিন দিন ভালো করছে। নতুন কিছু ভালো খেলোয়াড় যোগ হয়েছে, স্থানীয় খেলোয়াড়রাও ভালো করছে। সবাইকে ভালোভাবে একীভূত করতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হবে। দুই বেলা অনুশীলনের মাধ্যমে ফিটনেসও উন্নত হচ্ছে।

প্রতিপক্ষ অবশ্যই শক্তিশালী। তবে আমাদের এক ম্যাচ করে এগোতে হবে। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালো ফল পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং দল ভালো কিছু করতে পারবে। নতুন মৌসুমে আবাহনী ছেড়ে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছেন কাজেম শাহ। নতুন ক্লাব নিয়ে প্রত্যাশা জানতে চাইলে এই ফুটবলার বলেন, ‘সবাই জানে বসুন্ধরা কিংস বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্লাব। তাদের সুযোগ-সুবিধা ও পেশাদার পরিবেশ অনেক ভালো। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন ক্লাবেই খেলতে চান, যেখানে নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে নেয়ার সব সুযোগ থাকে। বসুন্ধরায় সেই সুযোগ আছে। তাই নতুন মৌসুমে তাদের হয়ে খেলতে আমি খুবই রোমাঞ্চিত।