সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের পর যা বললেন জ্যোতি

নারী এশিয়া কাপ

সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের পর যা বললেন জ্যোতি

ফন্ট সাইজ:

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আবারো ভারতের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের মেয়েদের। নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ৪০ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ভারতের ৬ উইকেটে ১৪৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ থামে ৭ উইকেটে ১০৯ রানে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে হারমানপ্রীত কৌরের দলের কাছে এই হারে হতাশ ক্রিকেটপ্রেমীরা। ম্যাচশেষে দলের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও ক্যাচ মিস নিয়ে আক্ষেপ করে জ্যোতি।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। পরিকল্পনা ছিল টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো ছন্দে থাকা বোলারদের নৈপুণ্যে ভারতকে অল্প রানে বেঁধে ফেলা। তবে শুরুর ওভারগুলোতে ফিল্ডিংয়ের চরম ব্যর্থতা সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। ভারতের ওপেনার শেফালি বর্মা মাত্র ৬ ও ১১ রান করার সময় জীবন পান। একের পর এক ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে শেফালি ৪০ বলে খেলেন ৬৪ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত সংগ্রহ করে ১৪৯ রান। ম্যাচের পর এই ক্যাচ মিস নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে শেফালি বর্মা ক্যাচ দেয়। ঐ ক্যাচ ধরলে পুরো দৃশ্য অন্যরকম হতে পারত। তবে যেভাবে মেয়েরা লড়াই করেছে, আমি খুশি।’

ভারতের দেয়া ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধীরগতির ব্যাটিংয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের উদ্বোধনী জুটিতে ২৬ রান তুলতে খরচ হয় ৩৩ বল। পাওয়ার প্লেতে কাঙ্ক্ষিত রান তুলতে না পারা এবং উইকেটে থিতু হয়ে উইকেট বিলিয়ে আসার খেসারত দিতে হয় লাল-সবুজের দলকে। পুরো ২০ ওভার খেলে ৭ উইকেটে ১০৯ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। দলের হয়ে স্বর্ণা আক্তার ১৮ বলে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন। দিলারা ২১ ও নিগার করেন ১৯ রান।
দলের এই পরাজয়ের জন্য ব্যাটারদের রান খরা ও অধারাবাহিকতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জ্যোতি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ভারতকে ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

তার ভাষ্য, ‘আমরা ওদের ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার কথা ভেবেছিলাম। তবে সেটা হয়নি। আমরা উইকেটও বিলিয়ে এসেছি। এতে রান তাড়া কঠিন হয়ে যায়।’ ব্যাটিং ইউনিটের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২ ম্যাচে যারা রান করেছে এবার তারা রান পায়নি। রানের এই অধারাবাহিকতাই আমাদের ভোগাচ্ছে। বোলাররা গত ৩ ম্যাচে ভালো করেছে। আমরা ভুগছি ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে।’