চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক, কারো কাছে মেলেনি পাসপোর্ট

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক, কারো কাছে মেলেনি পাসপোর্ট

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরের একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে চীনা, পাকিস্তানি ও লাওসের নাগরিকসহ ৬৩ জন বিদেশিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নগরীর খুলশী থানাধীন জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের খুলশী থানায় নেয়া হয়। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

তাদের পরিচয় ও বাংলাদেশে অবস্থানের উদ্দেশ্য যাচাই করা হচ্ছে। জব্দ করা ডিভাইসের মধ্যে ৬৮টি ল্যাপটপ ও ৬৫টি মুঠোফোন রয়েছে। বাকি ডিভাইসগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম রয়েছে। খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, গোপন সংবাদে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে বিভিন্ন দেশের ৬৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে মোবাইল-ল্যাপটপসহ মোট ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে।

এসব ডিভাইসে থাকা তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ওসি আবদুর রহিম আরও বলেন, বিষয়টি যাচাই করতে ঢাকাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞদের একটি দল চট্টগ্রামে আসছে। তাদের সহায়তায় জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে।

এদিকে বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল বলেন, চীন, লাউস, কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনলাইন প্রতারণা নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযান চলার কারণে প্রতারকরা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন। তাদের সহায়তাকারী দেশি-বিদেশি আরও সহায়তাকারী রয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা অবস্থান করছেন। আটক করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো ধরনের অনলাইন প্রতারণার সাথে সম্পৃক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে কিনা, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহাম্মেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া না গেলেও তাদের কাছ থেকে জব্দ করা আলামতগুলোতে দেখা গেছে তারা বিভিন্ন ধরনের ওয়েব সাইট ভিজিট করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক পর্যায়ে ধরে ফেলা হয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জব্দ করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হবে। দেড় মাস আগে ভবনটি ভাড়া নেওয়া হলেও তারা কখন বাংলাদেশে এসেছেন? জবাবে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কারো কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাদের সকল পাসপোর্ট এক ব্যক্তির কাছে রাখা আছে। তাকে ধরা গেলে এবং পাসপোর্টগুলো জব্দ করা গেলে বলা যাবে তারা কীভাবে কখন এ দেশে এসেছিলেন।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক ছিলেন। ওই অভিযানে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমাণ যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল।