ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিজাত মঞ্চে রূপকথার গল্প লিখে ওল্ড ট্রাফোর্ডে আসে সাবাহ। এক দশক আগেও যে ক্লাবের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, তারাই আজারবাইজানের চ্যাম্পিয়ন হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি। তবে সাবাহকে রূপকথা আর বাস্তবের ব্যবধানটা ঠিকই বুঝিয়ে দিলো মাইকেল ক্যারিকের দল। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নিজেদের প্রত্যাবর্তনী ম্যাচে সাবাহকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে যাত্রা শুরু করলো রেড ডেভিলরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী রূপ ধারণ করে ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের মাঝপথে ব্রায়ান এমবুমোর পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ডেডলক ভাঙেন মাথেউস কুনহা। এরপর প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ইউরি টিলেমানসের সহায়তায় জাল খুঁজে নেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
বিরতির ঠিক আগে সাবাহকে পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন গ্রীষ্মের নতুন তারকা বেঞ্জামিন সেসকো। ব্রুনোর থ্রু বল ধরে গোলকিপারকে কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ড মাতান এই স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষে ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিক দলের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘ফলাফলের দিক থেকে হয়তো আমরা যেমন শুরু চেয়েছিলাম তেমনটা হয়নি। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে অনেক ইতিবাচক দিক ছিল। ক্লিন শিট রাখাটা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দল হিসেবে আমরা দারুণ কিছু করেছি এবং এই মৌসুম আমাদের কী দিতে পারে, তা নিয়ে আমরা বেশ রোমাঞ্চিত।’
প্রথমার্ধে সাবাহ অবশ্য দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে ৩৫ মিনিটে কাহিম পারিসের ক্রসে জয়-ল্যান্স মিকেলসের হেড বাইরে চলে না গেলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আর বাড়তে না দিলেও পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে স্বাগতিকরা। ম্যাচের শেষভাগে ব্রুনোর ফ্রি-কিক থেকে জশুয়া জির্কজির শট গোলকিপার স্টাস পোকাটিলভের পায়ে লেগে জটলার সৃষ্টি হয়। সুযোগ বুঝে ব্যবধান ৪-০ করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।
ম্যাচের ইনজুরি টাইমে সাবাহর বদলি খেলোয়াড় ওরফে এমবিনার হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সান্ত্বনার গোল থেকেও বঞ্চিত হয় আজারবাইজানি ক্লাবটি। আগামী রোববার ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামবে ইউনাইটেড। এর আগে এই জয় ক্যারিকের শিষ্যদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
‘অনেক দিন এমন অনুভূতি হয়নি’
‘আজ আমার যে অনুভূতি হয়েছে, এমন অনুভূতি আমার অনেক দিন হয়নি।’ চ্যাম্পিয়ন্স লীগে বোডো/গ্লিমটের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ের পর কথাগুলো বলছিলেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা জামাল মুসিয়ালা। গুরুতর চোট এবং স্নায়বিক জটিলতা কাটিয়ে মাঠে ফিরে নিজের প্রথম গোল পাওয়ার পর এমন স্বীকারোক্তি দেন এ জার্মান মিডফিল্ডার।
ম্যাচের শুরু থেকেই কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে নরওয়ের ক্লাবটি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের ঠিক দুই মিনিটের মাথায় হ্যারি কেইনের পাস থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ডেডলক ভাঙেন মুসিয়ালা। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং স্নায়বিক সমস্যার কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর এই গোল তার ক্যারিয়ারে যেন দ্বিগুণ স্বস্তি এনে দিল। ম্যাচে মুসিয়ালা বদলি হিসেবে উঠে যাওয়ার পর মিডল পজিশনে জায়গা পেয়ে জোড়া গোল করেন মাইকেল ওলিসে। তবে সব আলো কেড়ে নেন মুসিয়ালা নিজেই।
ম্যাচ শেষে মুসিয়ালা তার অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘মাঠে সেই হালকা অনুভূতি, আনন্দ এবং মজা নিয়ে আমি এখন ধাপে ধাপে আমার আগের ছন্দে ফিরতে চাই।’ এ সময় বায়ার্ন ক্লাব, সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফদের অকুন্ঠ সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি তার শিষ্যের এই জাদুকরী প্রত্যাবর্তন নিয়ে বলেন, ‘আমরা জানতাম এমন একটি দিন আসবে। শীর্ষ স্তরের খেলোয়াড়দের ছন্দ ফিরে পাওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাস এবং এমন মুহূর্তগুলোর ভীষণ প্রয়োজন।’ অন্যান্য ম্যাচে ঘরের মাঠে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারায় কোমো। স্লাভিয়া প্রাহার মাঠে পিছিয়ে পরেও দারুণ এক প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় লান্স। ফেনারবাচে ও রোমা এবং পিএসভি ও শাখতার দোনেৎস্কের মধ্যকার দুটি ম্যাচেরই ফলাফল ১-১।
