প্রেমিকার পেছনে ‘উড়িয়েছিলেন’ ৪ কোটি ৫৬ লাখ, ব্রেকআপের পরেই আদালতে প্রেমিক

প্রেমিকার পেছনে ‘উড়িয়েছিলেন’ ৪ কোটি ৫৬ লাখ, ব্রেকআপের পরেই আদালতে প্রেমিক

ফন্ট সাইজ:

এক বছরের বেশি সময়ের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক প্রেমিকার পেছনে খরচ করা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার ফেরত চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন একটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তবে ৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের হাইকোর্ট তার দাবি খারিজ করে দিয়েছেন।
স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভুক্তভোগী’ সিইও চন্দর আগরওয়ালের দাবি, সাবেক প্রেমিকা ফেলিসিয়া লির পেছনে সম্পর্ক চলাকালে খরচ করা বিভিন্ন অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছিল এবং সেগুলো তাকে ফেরত দিতে হবে।

তবে লিখিত রায়ে সিনিয়র বিচারক লি সিউ কিন বলেন, এসব অর্থের বেশির ভাগই আগরওয়াল স্বেচ্ছায় উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল ক্রেডিট কার্ডে ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার খরচ, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, লির ফ্ল্যাটের জন্য ফেং শুই বিশেষজ্ঞের সেবা নিতে ১৭ হাজার ডলার এবং স্ট্যানফোর্ড-এনইউএস নির্বাহী শিক্ষা কর্মসূচির ফি বাবদ ৩০ হাজার ডলার।

রায়ে বিচারক বলেন, আমার সামনে থাকা প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায়, বাদী ওই নারীর প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন এবং সম্পর্ক চলাকালে তাকে দামি উপহারে ভরিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তাদের সম্পর্ক তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর বাদী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তার কাছ থেকে এর মূল্য আদায় করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চন্দর আগরওয়াল ভারতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি টিসিআই এক্সপ্রেসের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কোম্পানিটি ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ- উভয়টিতেই তালিকাভুক্ত।

অন্যদিকে ফেলিসিয়া লি সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট। পরে তিনি বিমা এজেন্ট ও মেডিকেল বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।

জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি বিমানে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। পরে ফেসবুকের মাধ্যমে লির সঙ্গে যোগাযোগ করেন আগরওয়াল। এরপর তাদের নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ শুরু হয়।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। লি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে আগরওয়াল সন্দেহ করার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপরে ২০২৪ সালের মার্চে মামলা করেন আগরওয়াল।
প্রেমের সম্পর্ক শুরুর আগেই লিকে বেশ কিছু দামি উপহার দিয়েছিলেন আগরওয়াল। একবার রাতের খাবারের পর তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে লিমুজিনের ব্যবস্থা করেন। হার্মিস, লুই ভুইতন ও প্রাডার মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্যও কিনে দেন তিনি। একসঙ্গে ইউরোপ সফরের সময় লির প্রায় সব খরচও বহন করতেন।

(৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি)