পয়েন্ট অব অর্ডারের অপব্যবহার নিয়ে স্পিকারের অসন্তোষ

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধি না মেনে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পয়েন্ট অব অর্ডারের নাম দিয়ে প্রতিনিয়ত নিয়মবহির্ভূত বক্তব্য দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সদস্যদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ ধারা পড়ে শোনান তিনি। স্পিকার স্পষ্ট জানান, যেকোনো বিষয়ে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার নাম পয়েন্ট অব অর্ডার নয়; কেবল সংসদের চলমান বিষয়, শৃঙ্খলা রক্ষা ও কার্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গেই এটি সম্পর্কিত হতে হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজ শেষে শুরু হওয়া অধিবেশনে তিনজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিলে স্পিকার কার্যপ্রণালী বিধি স্মরণ করিয়ে দেন।

অধিবেশনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তার নির্বাচনী এলাকার সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। এলাকাটিতে এক ব্যক্তি নিজেকে ইমাম মাহাদী দাবি করার পর তীব্র সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে, যেখানে মীরকাদিম একটি পৌরসভা। গত দুইদিন ধরে সেখানে একটা বিরাট ফিতনা তৈরি হয়েছে-একজন নিজেকে ইমাম মাহাদী দাবি করেছে। ফলে দু’টি কারণে পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, বুধবার রাত থেকেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আলেম-ওলামা এমনকি নারীরাও ঘর থেকে বেরিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও বা আক্রমণ করতে যাচ্ছেন, যা একটা চরম অশান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, ওই ব্যক্তি জুলাই যুদ্ধে শহীদ সারিকের বাবা। শহীদ সারিকের পরিবারকে বিভিন্ন সময় অনুদান দেয়ার কারণে এবং তার পাশে থাকার জন্য আমাকে কবরস্থানে গিয়ে দোয়া করতে হয়েছে। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভণ্ড ও ভুয়া ইমাম মাহাদীর সঙ্গে আমার সেই আগের ছবিগুলো শেয়ার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, মাননীয় স্পিকার, কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে আমি থার্ড (৩য়) এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির বিষয়ে কথা বলেছিলাম। সেই বিষয়ে আজ ‘দৈনিক ডেইলি স্টার’ পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে দেখা যায়, আমাদের একই এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য আরেকটি কোম্পানি ১ লাখ ৯০ হাজার ডলারের কোটেশন দিয়েছিল। কিন্তু চুক্তিটি যাদের দেয়া হয়েছে, তাদের দরপত্র ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলারের। অভিযোগ উঠেছে, এর সঙ্গে সরকারের একজন প্রভাবশালী সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সেদিন আমার প্রশ্নের উত্তর মাননীয় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এড়িয়ে গিয়েছিলেন। আমি এই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট বিবৃতি ও ব্যাখ্যা আশা করছি।

এরপরই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি বারবার এই সংসদে বলে আসছি যে, পয়েন্ট অব অর্ডার বা বৈধতার প্রশ্নের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। ইচ্ছা করলেই হুট করে দাঁড়িয়ে সংসদে যেকোনো বক্তব্য দেয়া যায় না। আমি এতবার বলার পরও আপনারা যতগুলো পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন, তার ৯৯ শতাংশই নিয়মমাফিক ছিল না। তাই আজ বাধ্য হয়ে আমি কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ নম্বর ধারাটি আপনাদের পড়ে শোনাচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সময় আপনারা সতর্ক থাকেন।