পুলিশের বাস ডাম্পিংয়ের প্রতিবাদে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে বাস ডাম্পিংয়ের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। সড়কের উপর আড়াআড়ি কয়েকটি বাস রেখে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। অবরোধের ফলে মহাখালীর সঙ্গে বনানী কিংবা মগবাজারের সংযোগ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যান ব্যস্ততম এই সড়কের যাত্রীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে তিন ঘণ্টা অবস্থান নেন। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক থেকে সরে আসেন অবরোধকারীরা।

শ্রমিকরা বলছেন, মহাখলালী বাসস্ট্যান্ড থেকে অনৈতিকভাবে তাদের মামলায় জর্জরিত করা হয়। মামলা দেয়া বাসগুলো পরে ডাম্পিংয়ে দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় একের পর এক। তারা বলছেন, জরিমানা দেয়া স্বত্বেও এসব বাস পুলিশ ডাম্পিংয়ে পাঠাচ্ছেন। ফলে এসব সমাধানে তাদের দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। অতিসত্বর এই কাজগুলো যাতে সম্পন্ন করা যায়, অযাচিত মামলা যাতে না হয়, এসব দাবি তোলেন তারা। যতক্ষণ এইসব দাবি পূরণ না হয় ততক্ষণ সড়কেই থাকবেন বলে জানান তারা। শ্রমিকরা এ সময় হাতে সিøপ নিয়ে সেখানে বিভিন্ন সেøাগান লিখে সড়কে বসে পড়েন।

জয়নাল নামের এক শ্রমিক বলেন, আমাদের ৩৬টি গাড়ি অযথাই ডাম্পিংয়ে দিয়ে রাখছে পুলিশ। রাস্তাঘাটে দাঁড়ালেই মামলা দিয়ে দেয়। যাত্রী নামাতে পারছি না ঠিকমতো। আবার, ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা দিলে গাড়ি ছেড়ে দেয়। টাকা না দিলে মামলা। অযথা হয়রানি করে। এইসব বন্ধ করার জন্য আমরা সড়কে এসেছি। কামরুল হাসান নামে এক বাসচালক বলেন, টার্মিনালের বাইরে গাড়ি পেলেই পুলিশ ডাম্পিং করছে, রেকার বিল ধরিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, পূর্বাচলে যেখানে বাস রাখতে বলা হচ্ছে, সেখানে যথাযথ নিরাপত্তা নেই। গাড়ির ব্যাটারি পর্যন্ত চোর নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এ হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। এসবের সুরাহা না হলে আমরা অবরোধ সরাবো না।
মখাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বাবুল মানবজমিনকে বলেন, আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বাস টার্মিনাল নিয়েই মিটিংয়ে ছিলাম। এরমধ্যেই জানতে পারলাম শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া শতভাগ যৌক্তিক। পুলিশ তাদের গাড়ি অযৌক্তিকভাবে ডাম্পিং করে রাখলে তারা চলবে কীভাবে। এখানে বিভিন্ন জেলার বাস আছে। অনেকেই এতে অংশীদার। ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান মানবজমিনকে বলেন, পুলিশ কিছু গাড়ি ডাম্পিং করলে ওইসব গাড়ি নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। ফলে তারা সড়ক অবরোধ করে রাখে। ৩ ঘণ্টা সড়কে ছিল তারা। পরে তাদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে সরানো হয়েছে।