জাতীয় সংসদে আলোচনা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হোক, যেন দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। জামায়াত আমীর বলেন, দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে বলে মহামান্য প্রেসিডেন্ট নিজেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আমরা যত পরিকল্পনাই করি না কেন, কোনোটিই সফলতার মুখ দেখবে না, সব দুর্নীতিবাজদের পেটে চলে যাবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের অর্থনীতি ভঙ্গুর। ব্যাংকিং সেক্টর ও স্টক মার্কেট—অর্থনীতির এই দু’টি মূল পিলারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। এসব জায়গা দলীয় প্রভাবমুক্ত করে উপযুক্ত ও সৎ লোকদের দ্বারা পরিচালনা করা দরকার।
তিনি মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চাকরিতে কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ চাই। কোটা আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ ইতিমধ্যেই এর প্রতিবাদ করেছে। আমরাও এর প্রতিবাদ করি। মেধার মূল্যায়ন হোক, কোনো দলীয় আনুকূল্য যেন না থাকে।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ৬৮.২ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আদালত চাইলে যেকোনো আইন বাতিল করতে পারে, কিন্তু গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে আইন হলে তা কেউ বাতিল করতে পারে না। আমরা চাই, সংসদে আলোচনা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হোক, যেন দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে।
ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে আমরা সৎ সম্পর্ক চাই। কিন্তু আমাদের দেশের খুনিদের তারা কেবল আশ্রয়ই দিচ্ছে না, রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগও দিচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যথাদায়ক। আমরা সীমান্তে ফেলানীর লাশ দেখতে চাই না। বাংলাদেশ এখন থেকে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলবে, কারও অধীনতা আর মেনে নেবে না।
শিল্প খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে পোশাক খাতের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্প মালিকরা যদি দেউলিয়া হয়ে যান, ব্যাংক ধ্বংস হবে, অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পকে বাঁচাতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবি জানান তিনি।
সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পদ হস্তান্তর আইন (প্রপার্টি ট্রান্সফার)’ কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে প্রেসিডেন্টকে এই বিলে সই না করার অনুরোধ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বিলটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আলেমদের দিয়ে পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা সামনে এগোতে চাই। সংসদে আমাদের বক্তব্য হবে যৌক্তিক এবং শালীন, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হবে না। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে একটি নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।
