গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতে হবে

রিট খারিজ

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতে হবে

ফন্ট সাইজ:

২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষের বকেয়া রাজস্ব বাবদ ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৬ টাকা কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল এ সংক্রান্ত জারি করা দু’টি রুল খারিজ করে বিচারপতি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুস সামাদ আজাদ জানান, এই আদেশের ফলে কর বিভাগ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ডিমান্ড নোটিশ জারি করে সমুদয় রাজস্ব আদায় করতে পারবে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের একটি চুক্তি ছিল; যার অধীনে গ্রামীণ টেলিকম তাদের অর্জিত লভ্যাংশের (ডিভিডেন্ড) ৪২.৫০ শতাংশ প্রফিট গ্রামীণ কল্যাণকে আর্থিক সহায়তা হিসাবে প্রদান করে। পরবর্তীতে আয়কর কর্তৃপক্ষ আয়কর আইনের সেকশন ১২০ অনুযায়ী ফাইলটি পুনর্মূল্যায়ন (রি-ওপেন) করে দেখতে পায়, গ্রামীণ টেলিকম থেকে অর্জিত ওই আয়ের ওপর কোনো উৎসে কর (ট্যাক্স অ্যাট সোর্স) কর্তন করা হয়নি। আইনজীবী জানান, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ আয়কর কমিশনারের কাছে রিভিশন আবেদন করে। তবে আয়কর আইনের ১২১(এ)(৪)(বি) ধারা অনুযায়ী রিভিশন আবেদনের অন্যতম শর্ত হলো— স্বীকৃত কর দায়ের (এডমিটেড ট্যাক্স লায়াবিলিটি) চালান দাখিল করা। গ্রামীণ কল্যাণ নিজেদের নামে চালান জমা না দিয়ে গ্রামীণ টেলিকমের চালানের কপি সংযুক্ত করে। ফলে আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ না হওয়ায় ২০১৭ সালের ১৪ই নভেম্বর কর কমিশনার তাদের রিভিশন আবেদনটি খারিজ করে দেন।
কমিশনারের ওই খারিজ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দু’টি পৃথক রিট পিটিশন (১৪৩৬৪/২০১৭ ও ১৭৭২৭/২০১৭) দায়ের করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটের প্রেক্ষিতে দেয়া পূর্বের রুল ডিসচার্জ ঘোষণা করেন। এর ফলে কর কর্তৃপক্ষের আদেশটিই বহাল রইলো।
রাষ্ট্রপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি করবর্ষে ৩৫ শতাংশ হারে প্রতিষ্ঠানটির নিরূপিত করের পরিমাণ:

২০১২-১৩ করবর্ষ: ১৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৬৬ টাকা। ২০১৩-১৪ করবর্ষ: ১৩২ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ১২ টাকা। ২০১৪-১৫ করবর্ষ: ১১৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৪ টাকা। ২০১৫-১৬ করবর্ষ: ১১৫ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৫ টাকা। ২০১৬-১৭ করবর্ষ: ১১৫ কোটি ৬১ লাখ ১ হাজার ৬৯৩ টাকা। সর্বমোট: ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৬ টাকা।

আইনজীবী মো. আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সাল থেকে এই রাজস্ব পরিশোধ না করে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছিল। হাইকোর্টের সংক্ষিপ্ত আদেশে রুল ডিসচার্জ হওয়ায় প্রমাণিত হলো কর মওকুফের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে, গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আজকের রায় প্রমাণ করছে যে, মামলাটি উইথড্র হয়নি। আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জয়েন্ট কমিশনার সাহেব যখন ৬৬৬ কোটি টাকা ট্যাক্স ধরে দিলেন, তখন প্রশ্ন করা হলো— আমাদের যে অ্যাট সোর্স কাটা হলো, সেই টাকাটা কোথায় যাবে? এর কোনো উত্তর তাদের কাছে নেই। তখন বলা হলো— যদি ইনকোয়ারি করতেই হয়, তবে গ্রামীণ টেলিকমকে করুন এবং অতিরিক্ত টাকা নিলে তা গ্রামীণ টেলিকমকে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু তারা সেটাও করছে না। হাইকোর্টের দেয়া রায়টি ছিল মৌখিক সংক্ষিপ্ত রায়। বিস্তারিত রায় প্রকাশের আপিল করার কথা জানায় আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।