রূপপুরে আগুন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই, গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

রূপপুরে আগুন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই, গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ফন্ট সাইজ:

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডকে ‘ছোট ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও ঘটনাটি মূল পারমাণবিক স্থাপনার বাইরে ঘটেছে। আগুনে কিছু আসবাব ও নথি পুড়লেও এসব নথির ব্যাকআপ রয়েছে। ফলে প্রকল্পের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তাই এ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রূপপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, যেখানে আগুন লেগেছে, সেটি মূল পারমাণবিক স্থাপনার বাইরে। এমনকি প্রবেশাধিকার-সীমিত এলাকারও বাইরে ওই স্থান। তাই এ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, আগুনে কিছু চেয়ার-আসবাব ও কয়েকটি নথি পুড়েছে। সার্ভারে থাকা তথ্য ও নথির ব্যাকআপ থাকায় এতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল মূল পারমাণবিক স্থাপনার বাইরে হওয়ায় কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মধ্যেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউনিট-১-এর পিওআরভি বা প্রেসার-অপারেটেড রেগুলেটরি ভালভে ত্রুটির কারণে কমিশনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ আটকে আছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, তিনটি ভালভের মধ্যে একটি কাজ করছে। অন্য দুটি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। প্রায় দেড় মাস ধরে ভালভগুলো খুলে পরীক্ষা, পুনরায় সংযোজন এবং তাপমাত্রা ও চাপের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ এসেছেন। তারা বর্তমানে রূপপুরে কাজ করছেন।
মন্ত্রী বলেন, ভালভে সমস্যা না হলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেয়ার সম্ভাবনা ছিল। এখন নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া সম্ভব নয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তিনি জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রায় দুই হাজার ফ্লাশ টেস্টসহ ৪৭টি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছিল। পরে আরও প্রায় ৯০টি পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে ভালভের সমস্যায় একটি পর্যায়ে এসে কাজ আটকে গেছে। সামনে আরও পরীক্ষা রয়েছে। তাই এখনই নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করলে তা আবার পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এত বড় একটি প্রকল্প দ্রুত চালুর চাপ থাকলেও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
রূপপুরের বিদ্যুতের দামও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় এবং বাকি পরীক্ষাগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়।
এর আগে গত ৫ই সেপ্টেম্বরও পিওআরভি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে রূপপুরের বিদ্যুৎ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় ইউনিটের ভালভ প্রথম ইউনিটে প্রতিস্থাপন অথবা বিদ্যমান ভালভ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি রয়েছে। দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ই সেপ্টেম্বর ভোরে রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে আগুন লাগে। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ের সার্ভারসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগের বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনের পর প্রকল্পের কয়েকটি কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহেও সমস্যা দেখা দেয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।