এএফডির বিরুদ্ধে জাতি নিধন নীতির অভিযোগ জার্মান চ্যান্সেলরের

এএফডির বিরুদ্ধে জাতি নিধন নীতির অভিযোগ জার্মান চ্যান্সেলরের

ফন্ট সাইজ:

উগ্র ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) বিরুদ্ধে ‘জাতি নিধন’ নীতি অনুসরণের অভিযোগ করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। দেশটিতে অভিবাসীদের রিমাইগ্রেশন’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর প্রচারণার মাধ্যমে দলটি এমন নীতি বাস্তবায়ন করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাজ্য নির্বাচনে এএফডির ব্যাপক সাফল্যের পর মের্ৎস এ মন্তব্য করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট। রোববার স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে এএফডির চমকপ্রদ ফলাফলের পর দলটির সঙ্গে পার্লামেন্টে প্রথম প্রকাশ্য সংঘাতে জড়ান মের্ৎস।

বুধবার জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগের নিম্নকক্ষে উত্তপ্ত বিতর্কে তিনি বলেন, এএফডির বর্ণবাদী গণনির্বাসন প্রচারণা জার্মান অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেবে। তিনি বলেন, রিমাইগ্রেশন শব্দটি বংশপরিচয় ও গায়ের রঙের ভিত্তিতে জাতিগত নির্মূলেরই আরেকটি নাম। বুধবার পার্লামেন্টে এ কথা বলার সময় অন্য দলগুলোর সদস্যরা করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।

এএফডির পার্লামেন্টারি দলের উদ্দেশে দেয়া এক উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যে মের্ৎসের কথা বলার সময় বারবার চিৎকার করে তাকে বাধাগ্রস্ত করেন দলটির সদস্যরা। এ সময় তিনি বলেন, জার্মান সমাজের জন্য লাখ লাখ কর্মরত অভিবাসী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মের্ৎস বলেন, আপনারা যদি রিমাইগ্রেশনের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে জার্মানিতে কর্মরত মানুষদের আবার দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন, তাহলে জার্মানির দক্ষ কারিগরি পেশাগুলো আর কার্যকর থাকবে না। কোনো বৃদ্ধনিবাস খোলা থাকবে না, জার্মানির কোনো হাসপাতাল চালু রাখা সম্ভব হবে না এবং কোনো রেস্তোরাঁও ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, এএফডির বক্তব্যই জার্মান সমাজে এত গভীর বিভাজন তৈরি করছে। নাৎসি আমলের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে উগ্র ডানপন্থি কোনো দলের জন্য এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী ফলাফল।

এএফডি নিয়মিতভাবে অনিয়মিত অভিবাসীদের বড় আকারে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে জার্মান আইনের অধীনে এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়তে হবে। স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পপুলিজম, জাতীয়তাবাদ এবং মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অসন্তোষের যে ঢেউ তৈরি হয়েছে, তার ওপর ভর করে এএফডি বড় সাফল্য পেয়েছে। নির্বাচনের পরপরই দলটিকে অভিনন্দন জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির ‘দারুণ বড় রাত’-এর প্রশংসা করেন। তিনি লিখেছেন, জার্মানির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ভয়াবহ অভিবাসন আইন ও বিধিনিষেধে শেষ পর্যন্ত তারা বিরক্ত হয়ে গেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে নির্ধারিত ফোনালাপ বাতিল করেন মের্ৎসে।

চ্যান্সেলরের একজন মুখপাত্র ফোনালাপ বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, নির্বাচনের মতো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘হস্তক্ষেপ করা বা মন্তব্য করার’ বিষয়ে মের্ৎস সব সময়ই সাধারণভাবে আপত্তি জানিয়ে এসেছেন। উল্লেখ্য, মের্ৎস রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট নেতা। ১৬ মাস আগে দায়িত্ব নেন তিনি। তার পর থেকেই তার প্রতি জনসমর্থন ব্যাপকভাবে কমেছে। মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে হতাশা এর অন্যতম কারণ।