রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল

ফন্ট সাইজ:

‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ অবস্থানে যাবে না তা হবে না’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এমন বক্তব্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে জাতীয় সংসদে। তার বক্তব্য ঘিরে হট্টগোল ও সরকারি দলের এমপিদের প্রতিবাদের মুখে অধিবেশন কক্ষ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হট্টগোলের মধ্যেই রুমিন ফারহানা তার বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংসদে এমন অসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও খারাপ।
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতির উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বক্তব্য রাখেন।

বিলটির উপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ১৫ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে বিরোধী দলের ১৩ জন সদস্য তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করবেন না বলে জানিয়েছেন। বাকি দু’জন হলেন রুমিন ফারহানা ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। একইভাবে বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ১৪ জন সদস্য। এর মধ্যে বিরোধীদলীয় ১২ জন তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করবেন না বলে জানিয়েছেন। বাকি দু’জন রুমিন ফারহানা ও শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।

এরপর রুমিন ফারহানা বক্তব্য শুরু করে বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। মাননীয় স্পিকার, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না-এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না। যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না-সেটাও হইতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। মাননীয় স্পিকার, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেইটাও হইতে পারে না।’
রুমিন আরও বলেন, ‘সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার উপরে ঋণখেলাপি হওয়া-ইত্যাদি ইত্যাদি।’

এ সময় সংসদে হইচই শুরু হলে তিনি বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ! মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন একই ধরনের আচরণ করছে, আরও খারাপ আচরণ-বরং বলি।’
এরপর ব্যাংক রেজুলেশন বিলে যুক্ত করা নতুন ধারার প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যাই হোক, মাননীয় স্পিকার, এই আইনটিতে ১৮-এর ক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ১৮-ক রাখা হবে না। কেন রাখা হচ্ছে-এর কারণ হচ্ছে এই সংসদ, বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত।’

তিনি বলেন, ‘ওই নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা-এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখছি, মাননীয় স্পিকার। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি রিট, খেলাপি থেকে বাদ দেয়। আর ইলেকশনটা যেই শেষ হয়, ওকে এই...”-এ পর্যায়ে সংসদে আবারো হট্টগোল শুরু হয়।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘ধন্যবাদ, ধন্যবাদ মাননীয় সদস্য। বসেন। অর্ডার, অর্ডার, অর্ডার। এভরিওয়ান প্লিজ কিপ কোয়েট। মাননীয় সদস্য, আপনি বসেন। অর্ডার, অর্ডার। মাননীয় সদস্য, আপনি বসেন।”
হইচই অব্যাহত থাকলে স্পিকার বলেন, “মাননীয় চিফ হুইপ, মাননীয় চিফ হুইপ, মাননীয় সদস্য আপনি বসেন। মাননীয় চিফ হুইপ, উইথ অল দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট, প্লিজ কিপ কোয়েট, প্লিজ কিপ কোয়েট।”
স্পিকার বলেন, “মাননীয় চিফ হুইপ, একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। শি হ্যাজ এভরি লিবার্টি টু স্পিক। বাট অন্যান্য মাননীয় সদস্যরা উনার বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান-সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এজ এ চিফ হুইপ অব ট্রেজারি বেঞ্চ আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের সময় যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য না। ধন্যবাদ আপনাকে।”
এরপর স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানান।