কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও। বোরকা পরা এক তরুণী। তরুণীটি অঝোরে কাঁদছে। সামনে থাকা ব্যক্তি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। রাজপথেই এ দৃশ্য। বিষয়টি নজরে আসে সবার। এমন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন অনেকেই। ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি সিলেট নগরের উপ-শহরের। মসজিদ মার্কেট উপ-শহরের পরিচিত এলাকা। ওই মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বিকালে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। দ্রুত সেটি ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে; দৃশ্যটি রাতের। ১৬ কিংবা ১৭ বছরের এক তরুণী। বোরকা পরা। কোমরে লোহার শিকল বাঁধা। সামনে এক ব্যক্তি। তার হাতে শিকলের অগ্রভাগ। টেনে নিয়ে সড়ক পাড়ি দিচ্ছে তরুণীকে। এরই মধ্যে তরুণী কাঁদছে। ভাইরাল হওয়ার পর ভিডিও নিয়ে পুলিশের টনক নড়ে। বুধবার সকালেই শাহপরান থানা পুলিশ অ্যাকশন শুরু করে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে সকালে আটক করে। এরা ওই মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী। পুলিশ জানায়- ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ঘটনাটি অমানবিক। কখনোই এটি করা যায় না। আইনবিরোধী কাজ। এ কারণে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে আটক করেছে। এরা হচ্ছে- শাহজালাল উপশহর এলাকার সি ব্লক, ৪৪নং রোডের ৫১ নম্বর বাসার মৃত জালাল উদ্দিনের দুই ছেলে মো. জাকির হোসেন ও মো. মোজাক্কির হোসেন ও একই এলাকার ৫৪ নম্বর বাসার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর বাদী হয়ে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এর আগে পুলিশ তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কী ঘটেছিল সেদিন, এ নিয়ে এন্তার আলোচনা চলছে সিলেটে। উপশহরের মসজিদ মার্কেটের এক দোকানে সন্ধ্যার একটু আগে ক্যাশ চুরির অভিযোগ করা হয়। ওই তরুণী দোকানির অনুপস্থিতিতে ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা চুরি করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। আর বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই তরুণীকে দোকানের সামনে বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি মাটিতে ফেলেও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তারা লোহার শিকল বেঁধে তরুণীর কোমরে বাঁধেন। এ সময় তরুণীকে কান্না করতেও দেখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে ওই তরুণীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় তার কোমরে শিকল বাঁধা ছিল।
একজন ওই তরুণীকে টেনে নিয়ে যান। আর এ দৃশ্যটি ভাইরাল হয়েছে বলে জানান তারা। এদিকে সোমবার রাতে তরুণীকে শাহপরান থানা পুলিশের হাতে তুলে দিলেও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। ফলে পরদিন মঙ্গলবার শাহপরান থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন আইনে প্রসিকিউশন দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ওই তরুণীকে পিতার জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কোর্ট পুলিশ। বর্তমানে তরুণীটি পিতার জিম্মায় রয়েছে। শাহপরান থানার ওসি মো. ফেরদৌস আহমদ জানিয়েছেন- ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চুরির কথা বলে ওই তরুণীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে পুলিশ এজাহারের জন্য অপেক্ষায় থাকলেও ব্যবসায়ীরা কোনো অভিযোগ করেননি। এ কারণে মেট্রো আইনে ওই তরুণীকে আদালতে প্রসিকিউশন দেয়া হয়। তিনি জানান- যখন তরুণীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল তখন তার সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে সেটি জানা ছিল না। পরে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর পুলিশ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন- পুলিশ ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযানে রয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
