সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং বিচারপতির এজলাস ত্যাগের বিষয়টি উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। এ ঘটনার সমালোচনা করে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুললে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মাহবুব উদ্দিন খোকনের ওই আচরণ সঠিক ছিল না। তবে এখানে রাষ্ট্রের তিন বিভাগের ক্ষমতার পৃথকীকরণের (সেপারেশন অব পাওয়ার) তত্ত্ব খাটে না। বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক একটু অন্যরকম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বিষয়টি উত্থাপন করেন।
এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সাথে প্রধান বিচারপতির একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের সব বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন এবং গতকাল আর কোর্টে ফিরে আসেননি। একজন আইনজীবী সত্য গোপন করে রিট করার কারণে জরিমানা করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনার সূত্রপাত।” খোকন সরকার দলের একজন প্রভাবশালী সদস্য উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা জনগণকে কী মেসেজ দিচ্ছে তা আমাদের চিন্তা করা উচিত। ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। এ ঘটনা সে ধরনের বার্তা দিচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।” রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গের (আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ) একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার না করার বিষয়ে তিনি আইনমন্ত্রীর সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেন। পরে ডেপুটি স্পিকারের আহ্বানে ফ্লোর নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সদস্য সেপারেশন অব পাওয়ারের যে তত্ত্ব দিয়েছেন, তা এখানে প্রয়োগ হয় না। কারণ ওই আইনজীবী (খোকন) সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে সেখানে ছিলেন। বার অ্যাসোসিয়েশন রাষ্ট্রের তিনটি অর্গানের কোনোটিরই অংশ নয়, এটি একটি ইনফরমাল বডি। সুতরাং তারা জনগণের অংশ। সেই জনগণের অংশ হিসেবে তিনি সেখানে ছিলেন। তবে এর মানে এই নয় যে, আমি তার ওই কাজকে জাস্টিফাই করছি।” বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবীদের একটি পুরোনো স্মৃতিচারণ করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি জানান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ এবং ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের মতো জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যেও আদালতে তুমুল তর্কবিতর্ক ও পার্সোনাল অ্যাটাক হতে দেখেছেন তিনি। কিন্তু এজলাস থেকে বেরিয়েই তাদের একসঙ্গে চা পান করতে দেখেছেন। এটি বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের একটি অংশ। বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “কালকে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যেভাবে কোর্ট থেকে উঠে গেলেন, তা আমাদের কাছে নিশ্চিতভাবেই মনে হয়েছে ওই আইনজীবীর আচরণ সঠিক ছিল না। মনে হয়েছিল তিনি কনটেম্পট (আদালত অবমাননা) প্রসিডিংস শুরু করবেন। কিন্তু আজ সকাল ৯টায় উঠে তিনি আবার যথারীতি কাজ শুরু করেছেন এবং ওই আইনজীবীও স্বাভাবিকভাবেই তার কোর্টে মামলা পরিচালনা করেছেন।” ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাবেন না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
