অন্তর্বতী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আসা দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ে ‘আমলযোগ্য’ বিবেচিত হওয়ায় তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব সাইদুর রহমান খান। তবে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখন অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।
বুধবার রাজধানী সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সাইদুর রহমান এই তথ্য দেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সংবাদ সম্মেলন করে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ। তার অভিযোগ, দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এদিকে দুদক সচিব সে অভিযোগ নাকচ করে বলেন, অবশ্যই না। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দুদক তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের এখানে অভিযোগ আসে। আমরা অভিযোগ অনুসন্ধান করি এবং তারপর আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। আসিফের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কমিশন বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখবে। আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর আগে অভিযোগের কোনো প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গিয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নে সাইদুর রহমান বলেন, দুদকে আসা অভিযোগ প্রথমে যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে যায়। আপনাকে একটা অভিযোগ আসল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই। যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চয়ই সেখানে একটা কমেন্ট থাকে, একটা রিকমেন্ডেশন থাকবে, একটা মতামত থাকবে। সেই মতামত নিয়েই কমিশন পরবর্তী কার্যক্রমে, অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন কমিশন পর্যালোচনা করার পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর অনুসন্ধানের প্রয়োজনে বিভিন্ন নথি চাওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে দুদক সচিবের ভাষ্য, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই।
দুদকের একজন মুখপাত্র এর আগে আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা থাকার কথা বলেছিলেন। এ বিসয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সচিব সেটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যিনি বলেছেন, স্লিপ অব টাং হিসাবে উনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এই ব্যাপারে ওইটা ওনার ব্যক্তিগত ভুল। তবে যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদনে অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য আমলযোগ্য মনে করা হয়েছিল। দুদক আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। অন্য ৩ জন হলেন- মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মাসুম আহমেদ। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফের দায়িত্বকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি চেয়েছে দুদক।
