ঢাকার বোঝা বর্জ্য এখন শিক্ষা উপকরণ: সেলিম উদ্দিন

ঢাকার বোঝা বর্জ্য এখন শিক্ষা উপকরণ: সেলিম উদ্দিন

ফন্ট সাইজ:

‘যে বর্জ্য ছিল ঢাকার বোঝা, সেই বর্জ্যই এখন শিক্ষা উপকরণে পরিণত হয়েছে’—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উপহার হস্তান্তর করেছেন তিনি। বুধবার সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও চিকিৎসাসেবা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য একটি ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার, ল্যাবে ব্লাড টেস্টের প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট এবং হাসপাতালের বেডের জন্য ম্যাট্রেস উপহার হিসেবে হস্তান্তর করেন সেলিম উদ্দিন।

উপহার হস্তান্তর শেষে কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। এ সময় তিনি সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার প্রশংসা করেন।

মতবিনিময় সভায় বর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে তৈরি কলম কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘যে বর্জ্য ছিল ঢাকার বোঝা, সেই বর্জ্যই এখন শিক্ষা উপকরণে পরিণত হয়েছে।’

বর্জ্য থেকে কলম তৈরির উদ্যোগকে ভবিষ্যতের আরও বড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্যকে কেন্দ্র করে কাগজ, কলমসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনের শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘চলো বদলে দেই ঢাকা উত্তর’—এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতেই তারা কাজ করছেন। পাশাপাশি তার দেওয়া কথা অনুযায়ী বর্জ্য থেকে কলম তৈরি করে তিনি দেখিয়েছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকলে জনগণের কল্যাণে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর অনেক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। শিশুদের হাতে বর্জ্য থেকে তৈরি পরিবেশবান্ধব কলম তুলে দেওয়া সেই সম্ভাবনার একটি ছোট উদাহরণ মাত্র।

মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কলেজ ও হাসপাতালের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।