জেলে যাওয়া অপরাধীদের শূন্যস্থান কেউ যাতে পূরণ করতে না পারে সেই চেষ্টা করছি: ডিসি ওয়ারী

জেলে যাওয়া অপরাধীদের শূন্যস্থান কেউ যাতে পূরণ করতে না পারে সেই চেষ্টা করছি: ডিসি ওয়ারী

ফন্ট সাইজ:

মাদক ও চাঁদাবাজির ঘটনায় যারা জেলে যাচ্ছেন, তাদের শূন্যস্থান কেউ যাতে পূরণ করতে না পারে পুলিশ সেই চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। বুধবার দুপুর ২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই কথা বলেন।

এর আগে যাত্রাবাড়ীতে মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে ইমরান নামের এক মাদক কারবারিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল হোতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন ডিসি ওয়ারী।
তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি, ছয়টি ককটেল, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ, কামরুল হাসান, মোহাম্মদ সাইফুল হোসেন, জামিল মিয়া ওরফে দোলন এবং মিঠু ওরফে ডোবার মিঠু।

মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে বাদল সরদার গলির শরীফের গ্যারেজে বসে থাকা ইমরান ও সাদ্দামকে লক্ষ্য করে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়েও তাদের ওপর হামলা করা হয়। হামলায় ঘটনাস্থলেই ইমরান নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত ইমরানের স্ত্রী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পার গেণ্ডারিয়া এলাকা থেকে মামলার মূল হোতা রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এই পিস্তলটি ঘটনাস্থলে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বিছানার নিচ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে ডেমরা থানাধীন পাঠানগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামরুল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফুল হোসেন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ছয়টি ককটেল, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি এবং দুটি সুইচ চাকু উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ৮ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় জড়িত মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ৯ সেপ্টেম্বর অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোহাম্মদ জামিল মিয়া দোলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিসি আরো জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে এবং ককটেল ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের ঘটনায় ডেমরা থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুর বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, রিয়াজুল ইসলাম ওরফে কালিয়া রিয়াজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতিসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুর বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতিসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত পাঁচজন ছাড়াও অন্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে জানতে চাইলে মল্লিক আহসান সামী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, এই গ্রুপটি মূলত বিগত আওয়ামী লীগ আমলে শুটার লিটন নামে একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিল তার আন্ডারে কাজ করতো। সে বর্তমানে জেলহাজতে আছে। তার নেতৃত্বে ওই মাদকের স্পটগুলো চলত। তাকে গ্রেপ্তার করার পর তার সহযোগী খাকি বাবুকেও আমরা গ্রেপ্তার করি। গুলিতে নিহত ইমরান খাকি বাবুর আপন ভাই। শুটার লিটন গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবং খাকি বাবু জেলে যাওয়ার পর ওই জায়গা দখল করার জন্য তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। উপগ্রুপ ও গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।