সৌদিতে হুতিদের হামলা, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে পাকিস্তান!

সৌদিতে হুতিদের হামলা, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে পাকিস্তান!

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। মঙ্গলবার এই পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। ইরান সমর্থনপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবও এর পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পক্ষান্তরে ইরানের সমর্থনকারীদের, এক্ষেত্রে হুতিদের হুঁশিয়ার করেছে পাকিস্তান। কারণ, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে জোটবদ্ধ। এই জোটের এক দেশ আক্রান্ত হলে তা অন্য সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচ্য। তাই যদি হয়, তাহলে চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর কথা পাকিস্তান ও চুক্তির আরেক অংশীদার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের।

ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডুবোযান বা সাবমার্সিবল ও একটি ড্রোন নিজেদের দখলে নেয়ার দাবি করেছে ইরান। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র এই সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে এবং ইরান জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা করেছে।

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে হামলা চালায় হুতিরা। এতে ৭৩ জন আহত হন এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে এটি বড় ধরনের বিস্তার বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে সৌদিতে হামলার প্রভাব পড়ার সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে। এর আগে দুই দিনে দুইবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের বলেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবার এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবার তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালায়। আইআরজিসির বিবৃতি উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পূর্ব জর্ডানের আল আজরাক শহরের কাছে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে জর্ডান বা মার্কিন সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
আগস্টে এক মাস শান্ত থাকার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২৩ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচেই ছিল।

যুদ্ধটিতে বারবার বিরতি এবং এরপর নতুন করে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি এখনো প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম। একই সঙ্গে প্রণালিতে তেল পরিবহন হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতাও ইরানের রয়েছে। এসব সংঘাতের পাশাপাশি দেশটির দুর্বল অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ পড়েছে।

ইয়েমেনের জনবহুল অধিকাংশ এলাকা, রাজধানীসহ, নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে জাহাজ চলাচলে নিয়মিত বিঘ্ন ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার হুতিরা দাবি করে, তারা সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের একটি সৌদি বিমানঘাঁটি এবং আবহা, নাজরান ও জাজান শহরে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।