১০ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার বাড়িয়ে বেতন প্রায় ৩৫ কোটি টাকা

বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতন পান কোন প্রধানমন্ত্রী

১০ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার বাড়িয়ে বেতন প্রায় ৩৫ কোটি টাকা

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বে কোন প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি বেতন পান, জানেন? তিনি হলেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং। এখন তিনি বেতন পান ২২ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার। এই অংক মার্কিন ডলারে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ লাখ। এরপরও তার বেতন বাড়ানো হচ্ছে। বাড়ানোর পর তার বেতন হবে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। শুধু তার একার নয় রাজনৈতিক নেতাদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এ ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে দেশটির ইতিমধ্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ মন্ত্রী পর্যায়ের বেতন ৬০ শতাংশেরও বেশি বাড়বে। সমৃদ্ধ সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চ বেতন দেয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। দেশটির দাবি, এতে যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করা যায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। কারণ, মন্ত্রিসভার সদস্যদের আয় দেশটির অধিকাংশ সাধারণ নাগরিকের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। লরেন্স ওয়ং জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বেঞ্চমার্ক বা নির্ধারিত বার্ষিক বেতন ২২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১৭ লাখ মার্কিন ডলার) থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার হবে।

উপপ্রধানমন্ত্রীর বেঞ্চমার্ক বেতন ১৮ লাখ ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩০ লাখ ৬০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার হবে। আর মন্ত্রিসভার সদস্যরা দায়িত্বের গুরুত্ব ও জ্যেষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে ১৮ লাখ থেকে ২৮ লাখ ৮০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত বেতন পাবেন। ওয়ং বলেছেন, তার মেয়াদে বেতন বৃদ্ধির পুরো অর্থ তিনি ‘উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে’ দান করবেন। বেতন বাড়ানোর আগেও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন যুক্তরাষ্ট্রসহ জি-৭-এর অনেক দেশের নেতাদের বেতনের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির আধিপত্য। ২১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় রাজনৈতিক বেতন প্রসঙ্গে ওয়ং বলেন, রাজনৈতিক বেতন একটি কঠিন ও আবেগঘন বিষয়।

তিনি বলেন, এই অর্থের পরিমাণ অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই কেন সিঙ্গাপুরের মানুষ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন এবং কেন অনেকেই এ বিষয়ে জোরালো মত পোষণ করেন, তা আমি বুঝতে পারি। তবে ওয়ং বলেন, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে আগামী কয়েক দশকে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে নিতে দেশটি প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবে কি না, তার ওপর। তিনি বলেন, আমাদের মূল কথা হলো ভালো সরকার পরিচালনার জন্য ভালো নেতৃত্ব প্রয়োজন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি গত ১৫ বছর ধরে মন্ত্রীদের বেতন সমন্বয় করেনি। সিঙ্গাপুর নিয়মিতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় স্থান পায়। ওয়ং জানিয়েছেন, একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে নতুন বেঞ্চমার্ক বেতন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন সমন্বয় করা বেতন পাবেন। ওয়ং বলেন, পরবর্তী সময়ে বেতনে যেকোনো পরিবর্তন ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।