আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের নিষেধাজ্ঞা, জাতীয় দলের ক্যাম্প, ফিফা উইন্ডো, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগের কারণে ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলায় দীর্ঘ বিরতির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের শীর্ষ লীগে খেলা ১০টি ক্লাব। তাদের দাবি, ঘন ঘন বিরতিতে খেলা বন্ধ থাকলেও খেলোয়াড়দের বেতন, আবাসন ও অন্যান্য খরচ চালিয়ে যেতে হয়। এতে ক্লাবগুলো আর্থিক চাপে পড়ে, নষ্ট হয় খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খেলার ছন্দ। এমন আরও কিছু বিষয় তুলে ধরে গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে মোহামেডান, আবাহনী লিমিটেড, রহমতগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাব, সিটি ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, পিডব্লিউডি ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস।
তবে চিঠিতে স্বাক্ষর করেনি বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিস এফসি ও পুলিশ এফসি। ক্লাবগুলোর প্রথম ও প্রধান দাবি- লীগ ও ফেডারেশন কাপের সূচি এমনভাবে করতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ বিরতি না পড়ে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ক্লাবে ফেরার পর দ্রুত খেলা শুরু করে প্রতিযোগিতা শেষ করারও দাবি ক্লাবগুলোর। ক্লাবগুলোর আবেদনে বলা হয়েছে, ‘২১শে সেপ্টেম্বর থেকে ৬ই অক্টোবর পর্যন্ত ফিফা উইন্ডো এবং ৪ থেকে ১৭ই নভেম্বর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে লীগ ও ফেডারেশন কাপে বড় ধরনের বিরতি পড়তে পারে। খেলা না থাকলেও এ সময় ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড়দের বেতন, আবাসনসহ নিয়মিত পরিচালন ব্যয় বহন করতে হবে।’ জাতীয় দলের স্বার্থে লীগ বন্ধ রাখতে হলে বাফুফে ক্লাবগুলোকে কী ধরনের আর্থিক সহায়তা দেবে, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে তারা। দীর্ঘ বিরতির আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ম্যাচের ছন্দ হারানোর বিষয়টি তুলে ধরেছে এই দশ ক্লাব। তাদের মতে, ‘নিয়মিত ম্যাচ না খেললে খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রতিযোগিতার মানেও প্রভাব পড়তে পারে।’ চিঠিতে ২০২৬-২৭ মৌসুমের লীগ ও ফেডারেশন কাপের ম্যাচ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজনের উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানিয়েছে ক্লাবগুলো।
লীগ কমিটিতে অংশগ্রহণকারী সব ক্লাবের সরাসরি ও সক্রিয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি আছে চিঠিতে। তাদের মতে, ‘এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে এবং লীগ পরিচালনাও আরও গতিশীল হবে।’ ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার দাবি ক্লাবগুলোর। জাতীয় স্টেডিয়ামসহ দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে ম্যাচ নির্ধারণের পর যেন শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত বা পরিবর্তন করতে না হয়, সে জন্য বাফুফেকে সুস্পষ্ট গাইডলাইন তৈরির আহ্বানও জানিয়েছে তারা। এ ছাড়া পার্টিসিপেশন মানির পাশাপাশি লীগের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ দলের জন্য প্রাইজমানি চালুর দাবিও জানিয়েছে ১০ ক্লাব।
