মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাপানের সুপরিচিত ইয়োহেই সাসাকাওয়া মিয়ানমার পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা করতে ইউনূস সেন্টারে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইউনূস সেন্টারের প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন চেয়ারের সেক্রেটারি শোতা নাকায়াসু; আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ফ্রাঞ্জ কেন কুরিবায়াশি; আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোরু কিমুরা; দোভাষী মিজ কিমিয়ো মাচিদা; সেন্টার ফর মিডিয়েশন সাপোর্টের পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা; সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ও রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে; এবং ড. শিহো তানাকা।
তারা বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সোমবার তারা বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণ, রোহিঙ্গা মানবিক সংকট এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাসাকাওয়া জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, সম্পদের কেন্দ্রীভবন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। যা কোনো একক দেশের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের যৌথ প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
আলোচনায় রোহিঙ্গা মানবিক সংকট এবং মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়। মিয়ানমারে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং সেখানে মানবিক ও শান্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে তার ব্যাপক অভিজ্ঞতার বিবেচনায়, অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, তিনি শান্তি ও সংলাপ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অবদান রাখা অব্যাহত রাখতে পারবেন।
প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্পষ্ট আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যতের বোধ ছাড়া বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম ক্রমেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে।
সাসাকাওয়া জানান, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। মানবিক প্রচেষ্টায় সহায়তার উপায় অনুসন্ধান করবেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেয়া হয়। অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের উপকূলীয় সম্ভাবনা এবং গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধাদি উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, উন্নত বন্দর অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে ভূমিকা রাখতে এবং নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিশ্ব বাজারের সাথে সংযুক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
বৈঠকে সামাজিক ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বৃহত্তর সহযোগিতা, পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থী তৈরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা তৈরিতে শিক্ষার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এবং তরুণদের চাকরিপ্রার্থীর পরিবর্তে চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তোলার নতুন শিক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদল ও প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার এবং সামাজিক ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও আঞ্চলিক শান্তি বিষয়ে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার ক্ষেত্র অন্বেষণের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
এসময় গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল হাসান এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।
