জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে ‘ডিজিটাল অ্যাক্রিডিটেশন ও কার্ড ইস্যুয়েন্স সফটওয়্যার’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবাদিকদের কাজ সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে এই সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয় রূপরেখা (এসআরএস) চূড়ান্ত করতে ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট (পিআইডি), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার, আইএফইএস এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমকে আহ্বায়ক এবং জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকারকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠক শেষে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে অনলাইন ও ডিজিটাল অ্যাক্রিডিটেশন ব্যবস্থার যে কারিগরি সীমাবদ্ধতা ছিল, তা দূর করতেই এবার সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন কার্ড বিতরণ পদ্ধতির বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমরা কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য কাউকে বাদ দেওয়া বা নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং কার্ড প্রদানের ব্যবস্থাপনাটি সহজ ও স্বচ্ছ করা, যাতে পেশাদার সাংবাদিকদের কার্ড নেওয়ার সময় কোনো ভোগান্তি পোহাতে না হয়। সেই লক্ষ্যেই গঠিত কমিটি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই আমরা কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবো।
এ সময় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় রাখতে এবং জনগণের ভোটাধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে এটি কাজ করে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা সম্পূর্ণ নির্ভর করে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর। স্বাধীনভাবে সত্য তুলে ধরার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাংবাদিকদের জন্য মুক্ত কাজের পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে অনেক রাজনৈতিক ক্যাডার ও অপেশাদার লোক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কার্ড বানিয়ে কেন্দ্র দখলসহ নানা বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে, যার ফলে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা নিগৃহীত ও বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। এবার যেন তেমনটি না হয়, তাই ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেওয়ার এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধে নিবন্ধিত ও মূলধারার গণমাধ্যম থেকে কেবল প্রকৃত সাংবাদিকদের যাচাই-বাছাই করে কার্ড দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পিআইডি’র প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন, আরএফইডি’র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ-দৌলাসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, অতীতে নির্বাচনকালীন হাজার হাজার সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষককে ম্যানুয়ালি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বা পাস ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ, জটিল ও শ্রমসাধ্য ছিল। এই প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতেই মূলত ইসি এই সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
