‘মেগা-ডিঙ্গি’ থেকে ১৪০ আশ্রয়প্রার্থী উদ্ধার, বৃটেনে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

‘মেগা-ডিঙ্গি’ থেকে ১৪০ আশ্রয়প্রার্থী উদ্ধার, বৃটেনে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ফন্ট সাইজ:

বৃটেনের পোর্টসমাউথে একটি বিশাল ডিঙ্গি নৌকা থেকে ১৪০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে তীরে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫ শতাধিক আশ্রয়প্রার্থীবিরোধী বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ডোভারের বন্দর অচল করে দেয়া ‘স্টপ দ্য বোটস’ বিক্ষোভের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে শনিবার দিবাগত রাতে হ্যাম্পশায়ারের ইস্টনি বিচ এলাকায় জড়ো হন শত শত বিক্ষোভকারী। তারা ‘স্টপ দ্য বোটস’ এবং ‘এনাফ ইজ এনাফ’- এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। শনিবার বিকেলে প্রায় ১৪০ জন অভিবাসী পোর্টসমাউথে পৌঁছেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরই সেখানে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। বৃটিশ সরকারের মন্ত্রী এমা রেনল্ডস ওই ৫০০ বিক্ষোভকারীকে ‘উচ্ছৃঙ্খল ও ভীতিপ্রদর্শনকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ডিঙ্গি নৌকাটি ফ্রান্সের ক্যালে থেকে নয়, নরম্যান্ডি থেকে যাত্রা করেছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বৃটেনে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য মানবপাচারকারীরা ফ্রান্সের উপকূলজুড়ে নতুন নতুন যাত্রাস্থল ব্যবহার করছে।

ফরাসি কোস্টগার্ড প্রায় ১০ ঘণ্টা নৌকাটিকে অনুসরণ করলেও এতে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষের কারণে নৌকাটি থামানোর চেষ্টা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা মনে করে। পরে বৃটিশ লাইফবোটগুলো দায়িত্ব নেয় এবং অভিবাসীদের বৃটেনে নিয়ে যায়। অনলাইনে বিক্ষোভকারীদের পোর্টসমাউথে যাওয়ার আহ্বান ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন। তাদের লক্ষ্য ছিল কোচে করে অভিবাসীদের কেন্টের একটি প্রসেসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া ঠেকানো। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন দিনের শুরুতেই সমুদ্রে নেমে পড়েন। তারা রাতে অবস্থান করে শহর থেকে অভিবাসীদের বের করে নেয়ার সব পথ আটকে দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়।

ইস্টনি পোর্টসমাউথ বন্দর এবং এইচএম নেভাল বেস থেকে মাত্র চার মাইল দূরে। এই নৌঘাঁটিতে রয়েল নেভির ছয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং দুটি প্রধান বিমানবাহী রণতরী- এইচএমএস কুইন এলিজাবেথ ও এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘শেম অন ইউ’ বলে চিৎকার করার সময় এক দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে তার মোটরবাইক থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাল হাতে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ‘পিছিয়ে যান’ বলে নির্দেশ দিচ্ছেন। পরে তারা কাছাকাছি থাকা একটি পুলিশ ভ্যান থেকে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে দেন। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বিক্ষোভকারীরা প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করেন। জলসীমার কাছে পুলিশের সঙ্গে একাধিক দফায় সংঘর্ষ হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, বিক্ষোভটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ড্যানিয়েল থমাস। তিনি টমি রবিনসনের সহযোগী এবং তার ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ নামের সংগঠনই শনিবার ডোভারে বড় ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করে। লাইভস্ট্রিমে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে থমাস বলেন, ডোভারে আগের দিনই তারা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন যে, ‘এটা আর মেনে নেয়া হবে না’ এবং নৌকায় করে আসা মানুষের সংখ্যা কমে গেছে- এ কথা আর বলা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু সংখ্যা কমে যাওয়ার নয়; বরং এই পরিস্থিতি এখনই শেষ করতে হবে। তবে ডোভারের বিক্ষোভের বিপরীতে এবার পোর্টসমাউথে জড়ো হওয়া শত শত বিক্ষোভকারী মুখোশ বা বালাক্লাভা পরেননি। যদিও তাদের অনেকেই কালো পোশাক পরেছিলেন।

ডিঙ্গিটি নরম্যান্ডির বে অব দ্য সেইন থেকে যাত্রা করে বৃটিশ উপকূলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী নৌকাগুলো প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে এটিকে অনুসরণ করে।