বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত: নূরুল কবীর

বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত: নূরুল কবীর

ফন্ট সাইজ:

বিচারের স্বার্থে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত বলে মনে করেন নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর। গত বৃহস্পতিবার ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে ‘মুখোমুখি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর’ শিরোনামে এক টকশোতে এ কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার কথা বলেছেন—সে প্রসঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, ‘আমরা চাই আসুক। কারণ তাদের অপরাধের বিচার হচ্ছে, সেই বিচার এখন তারা দেশে না থাকার কারণে একতরফা হচ্ছে। সুষ্ঠু বিচারের জন্য, তাদেরকে ডিফেন্ড করার জন্য, তারা আসুক। আসা দরকার। আসা উচিত বিচারের স্বার্থে। তাদের নিজেদের স্বচ্ছতা যদি কিছু থাকে, অন্যায় যদি না করে থাকেন—সেগুলো পরিষ্কার করার স্বার্থে আসতে হবে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন সপ্তাহে ১ হাজার মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে— অনুশোচনা এখনো পর্যন্ত কোনো পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীর চোখে-মুখে বাক্যে উচ্চারিত হয়নি। উনারা গালি দিতে পারবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা তারা অনুধাবন করবেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এটা বুঝতে পারবেন যে, মানুষ তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তাদেরই ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না।’

নিউ এজ সম্পাদক আরও বলেন, আমার খুব দুঃখ লাগে আওয়ামী লীগ নেতাদের যে একটা বিরাট অংশ, এখান থেকে অনেক বৃত্ত এবং বৈভবের মালিক হয়ে অনেকের সহযোগিতায় দেশ পাড়ি দিয়ে তারা যে বিভিন্ন দেশে পলাতক আছেন । তাদের কেউ কেউ এই বক্তৃতা দেয়া শুরু করেছেন, তারা আসছেন, তারা আসবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আওয়ামী লীগ নেতাদের এটা হচ্ছে সর্বশেষ পাপ এই মিথ্যাচার—তারা আসবেন না। এই যে এইটা কেন পাপ?’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে নূরুল কবীর বলেন, ‘ওনার (প্রধানমন্ত্রী) আলাপ, আচরণ ও উচ্চারণ বেশ নম্র। মানুষ সেটা পছন্দ করেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই তার অনেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, হচ্ছে। বাংলাদেশের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে—রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান, সেটা আওয়ামী লীগ যেভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছে, যেভাবে বিরোধী দলের মত দমন করেছে, সেই পদ্ধতিতে যদি তার মন্ত্রীরা এগোন, আর যদি একই ধরনের দুর্নীতির রাস্তায় তারা হাঁটেন, তাহলে সামান্য ইতিহাসবোধ যেটুকু আমার আছে সেই অনুসারে বলতে পারি—আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ১৫ বছর লেগেছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান মানুষের ভেতর যে শক্তির জন্ম দিয়েছে, তাতে যে ক্ষমতায়ন হয়েছে নিজের, সেই ক্ষমতায়নের জোরে এই সরকারকে কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হতে বেশি সময় লাগবে না। রাস্তায় কিন্তু মানুষ নামবে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু মন্ত্রীর যে প্রবণতা ইতিমধ্যে সমাজ দেখতে পাচ্ছে-তারা যাতে গণঅভ্যুত্থানকে বোঝার চেষ্টা করেন। না বুঝতে পারলে এই মন্ত্রীরা তো ডুববেন, প্রধানমন্ত্রী ডুববেন এবং বাংলাদেশকে আবার একটা কঠিন অবস্থার মধ্যে ফেলে দেবেন। আমি আশা করব যে, তিনি(প্রধানমন্ত্রী) সমালোচনা সহ্য করার তৌফিক অর্জন করবেন।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, ‘পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে আমরা একটা। আমরা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে প্রথমে ১৩ টা, পরে আরও ১৪ টা, না ১৯টা বোয়িং কিনতে গেলাম—আমি মনে করি বাংলাদেশের যে ফ্লিটে আরও এয়ারক্রাফট বাড়ানো দরকার, কিন্তু সেটা কি আমার প্রয়োজনে আমরা স্বাধীন দেশ হিসেবে এসেস করবো। প্রায়োরিটি কোনটা—এই যে ১৪ আর ১৩ এইটার লিজ নেয়া ও কেনার এবং সেই ক্ষেত্রে কোন রুটে চলবে তার টিকিটিংয়ে অবস্থা কী হবে? আমি কিন্তু মনে করি দরকার। কতগুলো দরকার আমি জানি না।’

‘ধরুন আমরা হজের সময় দেখি—যত পরিমাণ হজ ফ্লাইট যায় এবং আমরা বাইরে থেকে ভাড়া করে আনি। অন্যগুলো সৌদিসহ অন্যান্য মিডল ইস্টের কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ লাভ করে, এই এয়ারক্রাফটগুলো যদি বাংলাদেশে থাকতো, তাহলে এই পয়সাটা বাংলাদেশ পেতো। এখন আমরা কি সেই এসেস করতে দেখেছি। মানুষকে কি সরকার বলেছে যে, এই কারণে এই এইভাবে এত টাকা দিয়ে আমরা এতটা কিনছি এই রুটে চালাবো।’—উল্লেখ করেন এই সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রুট খুলে কিন্তু লিস্ট নিতে হয়। অনেক আইন কানুন আছে। আপনি চাইলেই এক দেশে থেকে আরেক দেশে এক এয়ারপোর্ট থেকে আরেক দেশের এয়ারপোর্টে যেতে পারবেন না। অনেক শর্ত ও চুক্তি করতে হয় এয়ারপোর্টগুলোর সঙ্গে। এগুলো না করেই যখন কেনা হচ্ছে এবং স্বয়ং মন্ত্রী যখন বলছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুরোধে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এগুলো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটার মধ্য দিয়ে দুটো জিনিস হয়—অর্থ একটা হল হাস্যকর প্রথমটা, দ্বিতীয়টা সাবসারভিয়েন্স (আনুগত্য প্রকাশ করা)। হাস্যকর হল এইখানে যে, ট্রাম্পের অর্থনীতি বিপদে পড়ে গেছে সেইটা রক্ষা করর জন্য তাকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ এমন এক বিত্তবান রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যে তাকে আমরা এখন সাহায্য করতে পারি। এটা তো কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা হাস্যকার দ্বিতীয় হচ্ছে যে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থে তার পণ্য কিনে আমরা তাকে তার অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই।’

তথ্যমন্ত্রী বদলের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বদলের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পাদক পরিষদের কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য একটু উদ্বিগ্ন। এই কারণেই উদ্বিগ্ন প্রাক্তন মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বহু বছর ধরে সাংবাদিকদের যে এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি হচ্ছিলো। সরকারের সঙ্গে আমাদের কিছু পেন্ডিং ইস্যুজ আছে, যেটা সম্পাদক পরিষদ হিসেবে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা আলাপ করেছি। আমাদের কতগুলো সমঝোতা হয়েছে। সেটা হলো—আইন-কানুন ও মিডিয়া কমিশন সম্পর্কিত।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘জহিরউদ্দিন স্বপনের সঙ্গে আমাদের একটা পুরনো সম্পর্কের কারণে অনেকেরই তার সঙ্গে কিন্তু ঝগড়াঝাটি করার সম্পর্ক ছিল। নতুন যিনি আমরা ঠিক জানি না, ওনার সঙ্গে আমার ভালো পরিচয় নেই বা অন্য অনেকের সঙ্গে। আমরাও কিন্তু উদ্বিগ্ন।’