কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা বাজারের নিউ জামাল মার্কেটে (জামাল কমপ্লেক্স) এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবারের এই আগুনে অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার মতো আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের তদন্তের পরই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। মঙ্গলবার দিন গত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিউ জামাল মার্কেট সংলগ্ন ছেহের মিয়ার রংয়ের মালিকানাধীন দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, দোকানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলাকালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই আগুন লাগে।
দোকানে প্রচুর পরিমাণ রং ও দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে তা নিউ জামাল মার্কেটের একটি ম্যাট্রেস তৈরির কারখানা, দোতলায় থাকা গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা এবং আব্দুল মালেকের মালিকানাধীন ওয়ালটন ও ভিশন শোরুমসহ আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কেনাবেচার মালামাল সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে প্রথমে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বেশি থাকায় পরবর্তীতে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে আরও একটি ইউনিট এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
হ্নীলা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, দাহ্য পদার্থের কারণে তা মুহূর্তেই পাশের মার্কেট ও দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ১০ থেকে ১২টি দোকানের মালামাল পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মী এটিএন ফায়সালের ওয়ালটন ও ভিশন শো-রুম, গ্রামীণ আউটলেট শাখা, ছেহের মিয়ার দোকান, জবাবের মিয়ার দোকান ও মোহাম্মদ আলমের ইলেক্ট্রনিক্স দোকান রয়েছে। টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তথ্যমতে ছেহের মিয়ার রংয়ের দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও মোট ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, হ্নীলা বাজারে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো নিহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।
