লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একই পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রহিমা বেগম।
অভিযোগে রহিমা বেগম বলেন, গত ১৪ই আগস্ট চন্দ্রগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন মারা যান। এ কারণে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল-১ হিসেবে অভিযোগকারীর স্বামী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি গত কয়েকদিন থেকে তার স্বামীকে ছোট কাউছার নামে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে কল করে হান্নান মেম্বারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এতে শফিকুল ইসলাম রাজি হননি।
পরবর্তীতে গত ২৭শে আগস্ট সকাল ১০টার পর একাধিক হত্যা ও সাজাপ্রাপ্ত মামলার আসামি ছোট কাউছার ৫-৬ জন সন্ত্রাসী নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বলেন, যেন হান্নান মেম্বারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার বিষয়ে স্বাক্ষর দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে যায়। বর্তমানে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান মারা যাওয়ার পর থেকে আমার প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে সকল ইউপি সদস্য একমত ছিল। হঠাৎ করে একদিন হান্নান আমাকে বলে ভাই এটা আমাকে ছেড়ে দেন, আমি আপনাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো এবং সকল প্রকল্প থেকে আপনাকে একটি লাভজনক অংশ দেবো। এ ছাড়াও তিনি আরও বলেন, হান্নান আমাকে প্রায় ৩ লাখ টাকা অফার করে তাকে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার জন্য। আমি রাজি না হওয়ায় আমার বাড়িতে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী পাঠায়। আমাকে মোবাইলে হুমকি-ধমকি দেয় আমি যেন হান্নানকে দায়িত্ব ছেড়ে দিই। পরবর্তীতে আমাকে জিম্মি করে জোরপূর্বক সাদা কাগজে আমার থেকে স্বাক্ষর নিয়ে যায়।
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হান্নান মেম্বার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ছোট কাউছারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ছোট কাউছারকে কোনো কিছু বলিনি। আমি একজন ইউপি সদস্য, আমি কেন কাউছারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবো। চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। যদি এ ধরনের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তদন্ত করে দেখবো।
