যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ‘পদোন্নতি ও পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ৪ কোটি টাকার বেশি ঘুষ নেয়ার’ অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে। গতকাল দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুদকের হাতে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানের আওতায় আসা অন্য তিনজন হলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদকের কাছে আসা অভিযোগটিতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকার সময় বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ‘চরম দুর্নীতি করেছেন’। কয়েকজন কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে সেখানে।
অভিযোগে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার জন্য দেড় কোটি টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও মোট ২ কোটি টাকা নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির, আনিচ, ইব্রাহিম, জুলহাস, নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ ও কোরবান আলীসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এই ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে যুব উন্নয়নের বিভিন্ন দরপত্র, কেনাকাটা ও অন্যান্য কাজে ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ হয়েছে।
অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি দল গঠন করেছে কমিশন। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। অন্য সদস্যরা হলেন-সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।
এর আগে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন ধরনের ‘দুর্নীতি, ঘুষ, অর্থ পাচার ও অবৈধ সুবিধা নেয়ার’ অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে।
তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছে কমিশন।
এদিকে, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতি করেছেন একজন উপদেষ্টা, একজন সচিব, একজন যুগ্ম-সচিব এবং একজন উপ-সচিবসহ আরও অনেকে মিলে। দুদক বলছে- প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ। এ বিষয়ে রাতে বিস্তারিত কথা বলবো বলেও জানান সাবেক এই উপদেষ্টা।
