বিএনপি’র দু’গ্রুপের সংঘর্ষে দাগনভূঞা রণক্ষেত্র, আহত ৪৫

বিএনপি’র দু’গ্রুপের সংঘর্ষে দাগনভূঞা রণক্ষেত্র, আহত ৪৫

ফন্ট সাইজ:

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ফেনীর দাগনভূঞা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে দু’পক্ষের নেতাকর্মী ও পুলিশসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল বিকালে উপজেলা সদরের আতাতুর্ক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিক গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

এতে গুরুতর আহত হয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও তার স্ত্রী সাবেক সহ-সভাপতি শাহিনা আকবর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা হুদন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম দুলাল, তার স্ত্রী মহিলা দলের নেত্রী জাহানারা বেগম, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, বাকি বিল্লাহ, শ্রমিক দল নেতা বাদশা, রিজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের শুক্কুর। এ ছাড়া জামশেদুর রহমান ফটিক গ্রুপের যুবদল নেতা রাব্বি, রিয়াজ, রায়হান, নাঈম ও হুমায়ুন আহত হন। এরমধ্যে দুলাল ও রাব্বি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আতাতুর্ক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটরিয়ামে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আকবর হোসেন নেতাকর্মীসহ বের হলে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থান নেয়া ফটিক গ্রুপের কর্মীরা ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় একপক্ষ অন্যপক্ষকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি বিএনপি’র কয়েকজন নেতা চেষ্টা চালান। এরমধ্যে ফটিক ও তার ভাই পলাশ তাদের কর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টায় ছিলেন বলে প্রতক্ষদর্শীরা জানান। এর আগে অনুষ্ঠান ঘিরে দুপুর থেকেই দুই গ্রুপের কর্মীরা ভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। এদিকে আকবর হোসেন জানান, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষে বের হলেই তাকে স্ত্রীসহ হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা করা হয়। বিনা উস্কানিতে ফটিকের লোকজন হামলা করে। এক বছর আগেও ৫ই আগস্ট দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিল।