কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের আলোচিত শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা সন্দেহে সাবেক ২ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। তারা হলেন— সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধে ও আদালতের আদেশের পর বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো ইন্টারপোলের কাছে এই রেড নোটিশের আবেদন করে। এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটানয় গত ২১শে এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় মো. জাহিদুজ্জামান ও সৈনিক মো. শাহীন আলম নামে পলাতক সাবেক দুই সেনা সদস্যকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত ও তাদের অবস্থান জানতে এবং গ্রেপ্তারের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি-ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে পিবিআই। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যাচাই শেষে মঙ্গলবার ওই দুই সাবেক সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। এই রেড নোটিশের মাধ্যমে কোনো দেশে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৪ঠা এপ্রিল ও ১২ই জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। এরপর গত ৬ই এপ্রিল তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচ (মেলানোর) করার জন্য আদালতের অনুমতি চায় পিবিআই। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম দুজনই দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও আটকের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে গত জুনে আদালতে আবেদন করে পিবিআই।
এরপর আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর পিবিআই এনসিবি-ঢাকায় একটি অনুরোধ পাঠায় এবং ওই দুজনকে শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চায়। বাংলাদেশের জমা দেয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইন্টারপোল দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।
