ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক আকার ধারণ করেছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৯০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, মোট আক্রান্ত ৬২৮৪ জন। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল রোগীর ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। রক্তদাতা সংগঠনগুলো হিমশিম খাচ্ছে। খুলনা জুড়েই এক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ১৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৬৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২৩ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা ২০ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৮৪। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫ হাজার ৩৭১ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩৮ জন। এ ছাড়া, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১৫৩ জন রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, খুলনার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এ পরিস্থিতিকে বড় ধরনের মানবিক সংকট উল্লেখ করে ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
বুধবার কেডিএ’র উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশকনিধন অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেডিএ চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে নগরীর প্রতিটি বাড়িঘর, অফিস-আদালত ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ কাজে উৎসাহিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনকল্যাণমুখী এ সরকার জনদুর্ভোগ লাঘবে বদ্ধপরিকর। তবে কোনো একক সংস্থার পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— কেডিএ’র সদস্য (এস্টেট) মো. ইকবাল হোসেন (উপসচিব), সচিব সৈয়দ ফারুক আহম্মদ (উপসচিব), পরিচালক (এস্টেট) ড. জাকিয়া সুলতানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান, স্থপতি জিনিয়া হক পিংকি প্রমুখ।
