চট্টগ্রামে ১৭ অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত ১৭টি ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব ভাটায় ইট পোড়াতে আগুন না দেয়া, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার এবং কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে নেয়া থেকে বিরত থাকতে মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিশেষ অভিযানে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইটভাটাগুলোর মালিকদের হাতে বন্ধের নির্দেশসংবলিত নোটিশ তুলে দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান। এ সময় রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন, পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপসি'ত ছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবস'ানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত এসব ইটভাটার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

ইটভাটা মৌসুমেও নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের কার্যক্রম চালানো যাবে না। নোটিশ পাওয়া ভাটাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মঘাইছড়ি এলাকার মেসার্স মক্কা মদিনা ব্রিকস (গগই), মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (ঝঅই-১), মেসার্স আবদুল করিম ব্রিকস (কইগ), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স সাদেক শাহ ব্রিকস (ঝঝই-১), মেসার্স চট্টগ্রাম ব্রিকস (ঈইগ), ইসলামপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স খাজা ব্রিকস অ্যান্ড ম্যানু. (কইগ), মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস (ইইগ-৩), মেসার্স বিসমিল্লাহ খাজা আজমির ব্রিকস (ইকই), আল মদিনা ব্রিকস (অগই), রাজানগর মধ্য ঘাগড়ার ত্রিপুরা সুন্দরী দীঘি এলাকার দরবার অ্যান্ড কোং (উ্‌ঈ), ৪ নম্বর ওয়ার্ড মাজার গেট এলাকার মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (কইগ), ১ নম্বর ওয়ার্ড বহড়াতল এলাকার মেসার্স বাগদাদ ম্যানু. ব্রিকস (ইগই), উত্তর ঘাগড়া এলাকার হাজী আতর আলী ব্রিকস (ঐঅই), রাজানগর ১ নম্বর ওয়ার্ড তারাবুনিয়া এলাকার মেসার্স আজমির ব্রিকস (গঅই), মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস ম্যানু. (কইগ), মেসার্স কে এম ব্রিকস (৩০৫) এবং মেসার্স হোসাইনুজ্জামান শাহ ব্রিকস (ঝণই)।

কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০), ইট প্রস'ত ও ভাটা স'াপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ অনুযায়ী এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস'া নেয়া হবে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নম্বর ৯১৫৩/২০২০-এর আদেশ অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত মামলা, ইট ও কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল ও ইট পোড়ানোর সরঞ্জাম জব্দ এবং অবৈধ ভাটা উচ্ছেদের মতো পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ নেই। রাঙ্গুনিয়ায় যেসব ভাটায় নোটিশ দেয়া হয়েছে, সেগুলোতে আগুন দেয়া, কাঠ পোড়ানো কিংবা কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় আইন অনুযায়ী এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নোটিশের পরও কেউ অবৈধভাবে ইটভাটা চালু রাখলে মোবাইল কোর্ট, মামলা, মালামাল জব্দ ও ভাটা উচ্ছেদসহ আইনানুগ ব্যবস'া নেয়া হবে।