সাংবাদিক পরিচয়ে কৃষকের কাছে চাঁদা দাবি, বেঁধে রাখলো জনতা

ফন্ট সাইজ:

বগুড়ার সোনাতলায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে এক কৃষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মহিদুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স'ানীয়রা মহিদুল ও তার এক সহযোগীকে মারধর করে বেঁধে রাখেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে। এ সময় আরেকজন কৌশলে পালিয়ে যান বলে স'ানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে, গত ৩১শে আগস্ট রাতে উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের চর খাবুলিয়া গ্রামে। মহিদুল ইসলাম পাকুল্লা ইউনিয়নের মিলনেরপাড়া গ্রামের মৃত ছামাদ বেপারীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স'ানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন আগে চর খাবুলিয়া গ্রামের কৃষক ছালজার রহমানের বাড়িতে গিয়ে মহিদুল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। তিনি ওই বাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন ছালজার রহমান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয়া হয়। পরে স'ানীয় এক পশু চিকিৎসক বাদলের মাধ্যমে মহিদুল আবার ওই বাড়িতে যান বলে স'ানীয়রা জানান। অভিযোগ রয়েছে, এরপর মহিদুল তার রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাসুদ ও শিবলুকে সঙ্গে নিয়ে ছালজার রহমানকে ফোন করেন। একই অভিযোগ তুলে তাকে চাপ দেয়া হয়। একপর্যায়ে ছালজার রহমান তাদের বাড়িতে এসে টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তারা বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করেন। স'ানীয়দের দাবি, সেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বা কথিত অনিয়মের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর গ্রামবাসী তাদের ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। একপর্যায়ে উত্তেজিত স'ানীয়রা তাদের মারধর করে বেঁধে রাখেন। এ সময় একজন পালিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মহিদুলকে উপসি'ত লোকজনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আগের ৩০ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
মহিদুল নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও তার সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে স'ানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তার পরিচয় যাচাই করা হয়।
স'ানীয়ভাবে মহিদুল ইসলাম নিজেকে দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ ও জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তার সোনাতলা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ ও জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তার ব্যবস'াপনা সম্পাদক খায়রুল ইসলাম বলেন, মহিদুল ইসলাম তিন-চার মাস ধরে জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তায় এবং প্রায় এক বছর ধরে দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ পত্রিকায় সোনাতলা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং পাকুল্লা ইউনিয়নের মিলনেরপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন বলেও স'ানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপনি' কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোনাতলা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদুর রহমান হান্নান ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বাবুর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিদুলকে পাকুল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচয়ে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পোস্টারেও প্রচার করা হয়েছে বলে দেখা গেছে। এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মহিদুল স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো সদস্য নন। তবে তিনি পাকুল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদ চেয়ে মৌখিকভাবে আবেদন করেছিলেন। সোনাতলা থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, কিছু সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।