রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার মাল্লাপট্টি ব্রিজ সংলগ্ন ড্রামপিং প্রকল্পের ১ কোটি ৫২ লাখ টাকার সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিশ খোয়া মিক্স করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ঠিকাদারের যোগসাজশে রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে পাথর থেকে ইটের খোয়া সরিয়ে নিতে বাধ্য হন এই কর্মকর্তা। জনস্বার্থ প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, চার মাস মেয়াদি এ কাজটি পেয়েছেন রাজধানীর মহাখালীর বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এর প্রোপাইটর মো. মনজুর মোল্লা। চলতি বছরের ২১শে জানুয়ারি কাজটি শুরু হয়ে ২১শে এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ৪ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি কাজ। শুধু বারবার ঠিকাদার পরিবর্তন হয়েছে।
অথচ কোনো ঠিকাদারই কাজ করেনি। সবাই শুধু হাত বদল করেছে আর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই হাতবদল নাটকের মূলে রয়েছেন জনস্বার্থ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, এই কর্মকর্তা সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কাজের এস্টিমেট বা নকশা (ডিজাইন) পরিবর্তন করে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করে মোটা অঙ্কের অর্থ লোপাট করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরের মধ্যে ইটের খোয়া মিক্স করে ঢালাই দেয়া হয়েছে। সিলেকশন বালুর সঙ্গে ভরাট বালু ও অল্প সিমেন্ট মিক্সড করে নম্বরবিহীন ইট দিয়ে গাইড ওয়াল তৈরি করা হয়েছে। গাইড ওয়ালের বেশির ভাগ খুঁটিতে রড দেয়া হয়নি। ১২ মিলি রডের পরিবর্তে ৮ মিলি রড দেয়া হয়েছে। খুঁটিতে চারটা রডের পরিবর্তে দেয়া হয়েছে তিনটা রড। খুঁটির সাইজ ১২ ফুটের পরিবর্তে ৮ ফুট দেয়া হয়।
গাইড ওয়ালের খুঁটিতে পাঁচমিশালি রড দেয়াসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার স্থানীয়দের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের জেরে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপরও কাজের গুণগত মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে এখনই গাইড ওয়ালের খুঁটিতে ফাটল ধরেছে। কোনো কোনো জায়গায় রাস্তাসহ গাইড ওয়াল ভেঙে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে বহাল তবিয়তে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে এখনো চলমান রয়েছে রাস্তার কাজ।
এদিকে পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিশ খোয়া মেশানোর কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গোয়ালন্দ উপজেলা জনস্বার্থ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে ভুলবশত শ্রমিকরা পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিশ খোয়া মিক্স করেছিল। আমি সেটা সরিয়ে দিয়েছি। আর সরকারি নকশায় কাজ করলে কাজটা বেশিদিন টেকসই হতো না।
তাই কাজের এস্টিমেট বা নকশা (ডিজাইনে) কিছুটা পরিবর্তন করছি। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি আরও বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়ম করিনি। অন্যদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন পৌরসভার ডিপিডি মাহমুদ টিপু। তিনি বলেন, ড্রামপিং প্রকল্পসহ রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম হলে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নেয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা।
