সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ পুরনো। ডাক্তার মিলে না- এ অভিযোগ সব সময়ের। এ নিয়ে বিরক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। বারবার তাগিদ দেয়ার পরও ডাক্তারদের উপস্থিতি যথাসময়ে মিলছে না। অবশেষে এ বিষয়ে বায়োমেট্রিকের একটি তথ্য প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর এ নিয়ে হচ্ছে তোলপাড়। মঙ্গলবার ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বায়োমেট্রিকের তথ্য উপস্থাপন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও বেশ বেশি। তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
এ কারণে বিজ্ঞপ্তিতে সব চিকিৎসককে সকাল ৮টায় যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্সে উপস্থিতি নিশ্চিত এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি আপাতত প্রাথমিক সতর্কীকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যত্যয় পুনরায় পরিলক্ষিত হলে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
