বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও রকেট লঞ্চার নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠেছে। সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পর একটি পক্ষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রী ও চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বিএনপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা পৌরসভার এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ও র্যালির আয়োজন করেন।
অপরদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। এর আগে, সকাল ১১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের ঘোষিত কর্মসূচির স্থান দখলে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। বেলা ১টার দিকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে এলে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে পরপর ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয় এবং ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষের সময় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
এদিকে সংঘর্ষের মধ্যে রকেট লঞ্চার নিক্ষেপের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে কী ধরনের অস্ত্র বা বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মহাসড়ক অবরোধ, দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ: সংঘর্ষের পর দুপুর ২টার দিকে ক্ষুব্ধ হয়ে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ চলার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই মিল্টন মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর ২টার দিকে বিএনপি’র লোকজন বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। সংঘর্ষ ও মহাসড়ক অবরোধের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে কাজী সালাউদ্দিন বলেন, তার সমর্থকেরা সীতাকুণ্ড পৌরসভা মাঠে অবস্থান করছেন। তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. কমল কদর বলেন, আসলাম চৌধুরী মাঠে না থাকলেও তার সমর্থক নারীরা সেখানে অবস্থান করছেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে আসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করা হয়। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
