স্কুল ফিডিংয়ের প্যাকেটজাত দুধে জ্যান্ত পোকা

ফন্ট সাইজ:

দেবীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা প্যাকেটজাত ইউএইচটি তরল দুধে জ্যান্ত পোকা পাওয়া গেছে। গত সোমবার উপজেলার দেবীডুবা-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা তিনটি দুধের প্যাকেটে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দুধ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস নামের প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার সরজমিন বিদ্যালয়ে গেলে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদা ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিতা আগের দিন সরবরাহ করা দুধের প্যাকেটে পোকা পাওয়ার কথা জানায়। তবে তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়নি বলে জানায়। বিদ্যালয়ে সোমবার সরবরাহ করা ১৪০ ব্যাচের কয়েকটি দুধের প্যাকেট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, সেগুলোতে উৎপাদনের তারিখ ২রা আগস্ট এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১১ই নভেম্বর উল্লেখ রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু মোনালিসাকে ছুটির সময় প্যাকেটজাত দুধ ও বনরুটি দেয়া হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় মোনালিসা দুধ ও বনরুটি বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে কিছুটা দুধ পান করার পর বনরুটি দুধে ভিজিয়ে খাওয়ার জন্য তার মা প্যাকেটটি কেটে একটি বাটিতে দিলে দুধের মধ্যে জ্যান্ত পোকা দেখতে পান তিনি।

মোনালিসার বাবা মোশাররফ বলেন, ‘এর আগে কখনো এমন সমস্যা হয়নি। গতকাল বিদ্যালয় থেকে দেয়া দুধের প্যাকেটের অর্ধেক স্ট্র দিয়ে পান করার পর বাকি দুধ বাটিতে ঢালতে গিয়ে জীবন্ত পোকা দেখতে পাই। পরে দুধটি আবার প্যাকেটে ভরে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের বিষয়টি জানাই। বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাৎক্ষণিক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের সহকারী ব্যবস্থাপক জাকারিয়া আনাম বলেন, ‘সারা দেশের বিদ্যালয়ে ইউএইচটি দুধ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ করা দুধে মাঝে মধ্যে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। আমরা শিক্ষকদের বারবার বলছি, তারা যেন শিশুদের দুধ পান করানোর আগে সামান্য স্বাদ দেখে নেন। কোনো শিক্ষার্থীর দুধের প্যাকেট নষ্ট পাওয়া গেলে পরদিন তাকে দুধ দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে প্যাকেটে মাইক্রো লিকেজ হতে পারে। এতে দুধের স্বাদ পরিবর্তন হয় এবং দীর্ঘ সময় গেলে ম্যাগোট জন্মাতে পারে।’ দেবীডুবা-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জন কুমার রায় বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও রংপুর ডেইরি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে রংপুর ডেইরিকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের খাবারের গুণগত মান যাচাই করে গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’