তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম

ফন্ট সাইজ:

আন্ডারলোডিং ও হিলি স্থলবন্দরের প্রতি ভারত সরকারের দ্বিমুখী আচরণের প্রতিবাদে রোববার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সকল প্রকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের ব্যবসায়ীরা। এর ফলে তৃতীয় দিনের মতন বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, তবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাওয়া-আসা স্বাভাবিক রয়েছে, স্বাভাবিক রয়েছে দেশের বন্দরে কার্যক্রম।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রাক প্রতি মালামাল পরিবহনের ওজন নির্ধারণ করে দেয়া এবং তা রোববার থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দেয়ার প্রতিবাদে ভারতের হিলি বন্দরের ব্যবসায়ীদের সকল সংগঠন যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বন্দরের ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার, পশ্চিমবঙ্গের আওতাধীন যে সকল স্থলবন্দর রয়েছে সেসব বন্দরে পণ্য পরিবহনের কোনো শর্ত আরোপ করেনি, বরং হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি রপ্তানিতে শর্ত বেধে দিচ্ছে, যার কারণে এ বন্দরের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। সকল বন্দর একই নিয়মে পরিচালিত হোক তাদের দাবি।

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টন ওজন কমিয়ে দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৬ চাকার ট্রাকে ২০ টনের বেশি পণ্য নেয়া যাবে না এবং ১০ চাকার ট্রাকে ৩০ টন পণ্য পরিবহনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ইতিপূর্বের নির্দিষ্ট কোনো সীমা ছিল না।
পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বর্ডারের মতো তারা পণ্য পরিবহন করতে চান, কিন্তু ভারতীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বর্ডার ঠিক রেখে হিলির প্রতি দ্বিচারিতা আচরণ করছে, ট্রাকপ্রতি পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেয়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অতিরিক্ত খরচের বোঝা তৈরি হচ্ছে। ফলে আমদানি রপ্তানিতে ব্যবসারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, বাণিজ্য কমে যাচ্ছে।

এদিকে ভারতীয় একজন ব্যবসায়ী জানান, আজ বুধবার ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসবে, তিনি সেখানে বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন, হাসপাতাল পরিদর্শন, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, সেই বৈঠকে হিলির বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী নজরে আনা হবে, তারা আশা করছেন ভালো কিছু একটা হবে।