ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন এলাকায়। এ কারণে সরকারি হাসপাতালের মতো বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে। অন্য রোগীর সঙ্গে একসঙ্গে সেবা দেয়ায় ডেঙ্গু আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসেই জেলায় নতুন করে ১৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর জানুয়ারি থেকে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৬ জনে। ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গত সোমবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে আট মাসেই গত বছরের (২০২৫ সালে মোট ২০১ জন) রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ছয় উপজেলায় ৬৭ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আটজন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দু’জনসহ মোট ১০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জেলায় জুলাই মাসে ৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও আগস্টে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৫ জন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ছয় উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ফেনী সদর উপজেলায়। আগস্টে এখানে ৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সদর উপজেলায় মোট আক্রান্ত ১৫৩ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকা বা হটস্পট শহরের রামপুর এলাকা। যেটি ঘনবসতি ছাড়াও মিল কারখানার পাশাপাশি ব্যবসায়িক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া দাগনভূঞায় আগস্টে ১১ জনসহ মোট ৩৫ জন, সোনাগাজীতে ১৪ জনসহ মোট ২৩ জন, ছাগলনাইয়ায় ১১ জনসহ মোট ১৬ জন, পরশুরামে দু’জনসহ মোট ১০ জন এবং ফুলগাজীতে ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০৮ জন। এরমধ্যে ১৯১ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৭ জন। এ পরিসংখ্যন সরকারি হাসপাতালের। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে সমপরিমাণ রোগী সেবা নিয়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি ও এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলেও জানান সিভিল সার্জন।
