রংপুর কারমাইকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে ১৯৮৬ সালে যুক্ত হন। এরপর রাজপথ। আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম। ছাত্রজীবন শেষ করেই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরিস্থিতি মোকাবিলা করে রাজপথ থেকে এখন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।
রংপুর কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য, পরবর্তীতে রংপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি। স্বপ্ন দেখেন অবহেলিত রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় সাধারণত মানুষের সেবার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। ১৯৯৩ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করে পীরগঞ্জের ৫নং মদন খালি ইউনিয়নে ১৯৯৭ সালে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেন। এই ৫ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করায় পরবর্তী নির্বাচনেও বিপুল ভোটে বিজয় হন। তিনি একটানা ১৯৯৭-২০১১ সাল পর্যন্ত ৫নং মদনখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। সাইফুল ইসলাম ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে একাধারে পীরগঞ্জ উপজেলা ও জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে একাধিক জাতীয় পদকে ভূষিত হন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে রাজনীতিতে তোপের মুখে পড়ে হত্যা, নাশকতাসহ ২২ মিথ্যা মামলার যাঁতাকলে পড়েন।
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের প্রতি ত্যাগের মূল্যায়ন পেয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক পদ পান। রংপুর জেলার ৮টি উপজেলায় সরজমিন দেখা যায়, দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে মানুষজন জেলা পরিষদের কাজের সুবিধা পাচ্ছেন। সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, দায়িত্ব নেয়ার পর জেলার ৮টি উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে মোট ৫০ কোটি টাকার কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এখন এডিবি’র ৫ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় রংপুরের ৮টি উপজেলায় মোট ৪ লাখ ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ প্রায় শেষের দিকে। তিনি কোটাবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে প্রথম শহীদ আবু সাইদের নামে তার গ্রামের বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম ও উন্নতমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
