চারদিনের ক্রিকেটে দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগে শুরু থেকে একটি দল পরিচালনা করতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) দলটির নাম ছিল ‘বিসিবি উত্তরাঞ্চল’। নানা কারণে এই প্রতিযোগিতা থেকে অসন্তোষ জানিয়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সরে যেতে শুরু করে। গত আসরে চারটি দল নিজ খরচে পরিচালনা করে বিসিবি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক দল চালাতে অপারগতা জানিয়ে বিপিএল শুরুর আগে সরে যায়। সেই আসরে বিসিবি দলটির দায়িত্ব নেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরে দল নিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বিসিবি। তবে এবার এই ভুল করতে রাজি নয় বোর্ড। গতকাল এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান বিসিবি’র টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। বাংলাদেশ ফার্স্ট নামে (এখনো প্রস্তাবিত নাম) এনসিএল টি-টোয়েন্টি, বিসিএল ওয়ানডে ও চারদিনের ম্যাচ নিয়ে যে টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে বিসিবি, সেখানে তারা দল নেবে না বলেই জানান আলমগীর। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনসিএল টি-টোয়েন্টি (যেখানে আগে আটটি দল অংশ নিতো), বিসিএল চারদিনের ম্যাচ এবং বিসিএল ওয়ানডে- এই তিনটি টুর্নামেন্টকে একটি প্যাকেজের আওতায় এনে ছয়টি দল গঠন করা হচ্ছে। এরপর দলগুলোর স্পন্সরশিপ বা মালিকানা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। আমরা (বিসিবি) সেখানে কোনো দল পরিচালনা করবে না।’
নতুন কাঠামোর দলীয় মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান আলমগীর বলেন, ‘এটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, স্পন্সরশিপভিত্তিক মালিকানা। বিভিন্ন করপোরেট হাউজ ও ব্যাংককে দলের মালিকানা এবং নেমিং রাইটস দেয়া হবে। এই তিনটি টুর্নামেন্টের জন্য তারা ক্রিকেট বোর্ডকে বছরে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা দেবে। দল পরিচালনা, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা করবে ক্রিকেট বোর্ড। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণার সুবিধা পাবে।’ এতে বোর্ডের নিজস্ব দল পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে। সরাসরি দল গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘না, বিসিবি’র নিজস্ব কোনো দল থাকার প্রশ্নই আসে না। এতে করে বিসিবি’র অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়।’ আর্থিক সাশ্রয় ও ব্যয় সংকোচন প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন, ‘আগে এই তিনটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে ক্রিকেট বোর্ডের প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। নতুন প্রক্রিয়ায় দলগুলোর মালিকানা করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে দেয়ায় আমরা প্রথম বছরেই প্রায় ১৫ কোটি টাকা লাভ করতে পারবো। এতে বোর্ডের প্রকৃত খরচ ২৫ কোটি টাকা থেকে কমে মাত্র ১০ কোটি টাকায় নেমে আসবে।’ বিপিএল মাঠে না গড়ানোর কারণে তৈরি হওয়া সূচির শূন্যতা পূরণ এবং ক্রিকেটারদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি সমন্বয় নিয়ে কথা বলেন বিসিবি’র টুর্নামেন্ট কমিটির এই শীর্ষ কর্মকর্তা। সূচি সমন্বয় নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘এই কাঠামোটি মূলত প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে চলবে। তবে এবার যেহেতু বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না, তাই বিপিএলের নির্ধারিত স্লটটিতে এই টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করা হচ্ছে।’ বিসিএল চারদিনের ম্যাচ, ওয়ানডে এবং এনসিএল টি-টোয়েন্টি- সব ফরম্যাটেই ছয়টি করে দল থাকবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি এক বছর মেয়াদি কোনো চুক্তি নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সর্বনিম্ন ৩ বছর মানে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।’ ঘরোয়া ক্রিকেটের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের পুরনো অচলাবস্থা দূর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ক্রিকেট বোর্ড। ঘরোয়া আসরের সার্বিক কাঠামোগত রূপান্তর নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘সেই অচলাবস্থা কাটাতেই এই নতুন পরিকল্পনা। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলো যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতা বহুগুণ বাড়বে এবং টুর্নামেন্টগুলো অর্থবহ হবে। ড্রাফট থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পছন্দের খেলোয়াড় বেছে নেবে। ফলে দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। অনেক ক্রিকেটারকে এসব প্রতিষ্ঠান চাকরির সুযোগসহ নানা সুবিধা দেবে; যা ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে লাভবান করবে। ফলে দায়সারাভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না।’
