বিপিএলের ক্ষতিপূরণ হবে না, তবে-

বিপিএলের ক্ষতিপূরণ হবে না, তবে-

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) মাঠে না গড়ানোয় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের ক্রিকেটাররা। সেই ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। তবে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরগুলোর ম্যাচ ফি বাড়িয়ে বেশি সংখ্যক ক্রিকেটারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিপিএল না হলেও জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের (বিসিএল) মাধ্যমে ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটারের ক্ষতি কিছুটা কমানোর পথ খুঁজছে কোয়াব। এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে দুই দফা আলোচনাও করেছে ক্রিকেটারদের সংগঠনটি। বোর্ডের কাছে ইতিমধ্যে একটি রূপরেখাও তুলে দেয়া হয়েছে।

কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘প্রথমত, বিপিএল না হওয়ার বিকল্প কিছু করে খেলোয়াড়দের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার মতো অবস্থা এখন নেই এবং সেটি হবেও না। বিপিএলের পরিবর্তে অন্য কিছু হচ্ছে না। আমাদের যে খেলাগুলো রুটিন অনুযায়ী হওয়ার কথা, যেমন এনসিএল বা বিসিএল, সেগুলোর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে কতোটুকু উপকৃত হতে পারে, সেই দিকটি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।’ বিপিএল না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটারদের। তবে শুধু ৫০-৭০ জন ক্রিকেটারের কথা না ভেবে ১৫০-২০০ জন ক্রিকেটারকে কীভাবে আর্থিকভাবে উপকৃত করা যায়, সেটিই গুরুত্ব পাচ্ছে কোয়াবের আলোচনায়। এ জন্য এনসিএল ও বিসিএলের ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। মিঠুন জানান, জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও অধিনায়কদের সঙ্গে আলোচনা করেই বোর্ডের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

দেশের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুধু কোয়াব নয়, আমরা জাতীয় দলের অধিনায়কদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। যারা এখন দেশে নেই, তাদের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ হয়েছে। সব বিস্তারিত আলোচনা করেই আমরা বোর্ডে প্রস্তাব দিয়েছিলাম।’ বিসিবি’র সঙ্গে বৈঠকে বিপিএল না হওয়ার কারণে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে সেই ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়- এ বাস্তবতা মেনে নিয়েছে কোয়াব। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের আয়ের সুযোগ বাড়ানোই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। মিঠুন বলেন, ‘গতদিন বিপিএলের বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি পুষিয়ে দেয়া সম্ভব নয়, এটি সবাই স্বীকার করবে।

তবে ভবিষ্যতে আমরা কীভাবে ১৫০-২০০ খেলোয়াড়কে উপকৃত করতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’ এনসিএল ও বিসিএলের ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাবটি এখন বিসিবি’র সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায়। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হলেও নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেয়া ক্রিকেটারদের আয় কিছুটা বাড়বে। তবে ভবিষ্যতে বিপিএল বন্ধ না রাখার দাবি জোরালোভাবে জানিয়েছে কোয়াব। তাদের মতে, দেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় এই আসর বন্ধ হয়ে গেলে শুধু ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতিই হয় না, ঘরোয়া ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।