দাসপ্রথা ও বর্ণবৈষম্যের ঐতিহাসিক ক্ষত মেটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন দেশ আইনত বাধ্য বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের একটি কমিটি। সোমবার প্রকাশিত এক নির্দেশনায় বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক কমিটি বা সিইআরডি জানিয়েছে, এই দায় ১৯৬৫ সালের বর্ণবৈষম্য সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন থেকে এসেছে, দাসপ্রথা চলাকালীন সময়ের আইন থেকে নয়। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাতিসংঘের এই নির্দেশনায় বলা হয়, আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের জন্য সব ধরনের প্রতিকারসহ সমন্বিত ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে। পঞ্চদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে অন্তত ১ কোটি ২৫ লাখ আফ্রিকানকে জোরপূর্বক বিক্রি ও বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল, যা ইতিহাসের বৃহত্তম বলপূর্বক স্থানান্তরের ঘটনা। সম্প্রতি দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণ ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমার দাবি আন্তর্জাতিকভাবে জোরালো হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বৃটেন গত মার্চে জাতিসংঘে এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল। কমিটির বিশেষজ্ঞ পেলা বোকার উইলসন জানান, কেবল মৌখিক অনুশোচনা প্রকাশের দিন শেষ। রাষ্ট্রগুলোকে এখন আইন ও নীতি পর্যালোচনাসহ অর্থবহ পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘ স্পষ্ট করেছে যে কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য দূর করতে ঐতিহাসিক নথি উন্মুক্ত করা, বিতর্কিত স্মৃতিস্তম্ভ সংশোধন এবং স্বাধীন সত্য কমিশন গঠনের মতো পরিবর্তনমূলক পদক্ষেপ নেয়া আবশ্যক।
