বিপিএল না হলে ক্ষতিপূরণ পাবে ক্রিকেটাররা!

বিপিএল না হলে ক্ষতিপূরণ পাবে ক্রিকেটাররা!

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) এবারের আসর হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল করতে রাজি নন। তিনি এই আসর পরের বছর গুছিয়ে আয়োজন করতে চান। তবে অক্টোবর থেকে বিসিবি বাংলাদেশ ফার্স্ট (প্রস্তাবিত নাম) কাঠামোর অধীনে তিনটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায়। সেই আসরগুলোতেই ক্রিকেটারদের বিপিএলের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গতকাল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) মাধ্যমে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিসিবি সভাপতি ও কয়েকজন পরিচালক।

দুই পক্ষ থেকেই বিকল্প করণীয় নিয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কোয়াবের পক্ষ থেকে এখনো সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রস্তাবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে কোয়াবের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন জানিয়েছেন তারা বোর্ডের আলোচনায় সন্তুষ্ট। নাসির বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে ছিল এবং এখনও আছে। আমরা মূলত বিপিএল নিয়ে কথা বলেছি কেন এবার বিপিএল হচ্ছে না। বোর্ড সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। বিপিএল না হলে খেলোয়াড়রা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই বিপিএলের জায়গায় কী করলে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয় এবং ক্রিকেট বোর্ড কী করতে পারে সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ ঘরোয়া ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্ট স্থগিত থাকায় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি সামাল দেয়াই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। এই সংকট নিরসনে বিসিবি ও কোয়াবের মধ্যে সংলাপ চলছে।

মাঠের ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ব্যস্ত রাখতে এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিতে উভয় পক্ষই সক্রিয় রয়েছে। দুই পক্ষের এই যোগাযোগ ক্রিকেটারদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের সামনে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। কোয়াবও খেলোয়াড়দের স্বার্থে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বোর্ডে জমা দিয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত না হলেও উভয় পক্ষ দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজছে। ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে বোর্ডের এই উদ্যোগ নিয়ে নাসির হোসেন বক্তব্য দেন। নাসির বলেন, ‘তারা আমাদের কিছু প্রস্তাব দিয়েছে এবং আমাদের এখান থেকেও কিছু প্রস্তাব এসেছে। তবে জিনিসটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আবার পরবর্তী সময়ে বসব এবং এটা নিয়ে আলোচনা করব। আপাতত আমরা সন্তুষ্ট। আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি বা ক্রিকেট বোর্ড যা দিয়েছে, আমার বিশ্বাস পরবর্তী মিটিংয়ে এটার সমাধান হয়ে যাবে।’ ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন ও বড় সংস্কারের লক্ষ্যে বিসিবি প্রবর্তন করছে নতুন মডেল ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যদিও এই নামটি এখনো প্রস্তাবিত।

এই পরিকল্পনার আওতায় একই ছাতার নিচে তিনটি আলাদা ফরম্যাটের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। এই কাঠামোতে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে এবং চার দিনের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ছয়টি দল। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা নেমিং রাইটসের দায়িত্ব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলেও টুর্নামেন্ট পরিচালনার যাবতীয় খরচ বহন করবে বিসিবি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে, যেখান থেকে প্রতিটি দল তিন ফরম্যাটের জন্য একবারে ২৫ জন করে ক্রিকেটার দলে ভেড়াতে পারবে। ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে নেয়া বোর্ডের এই পরিকল্পনাকে কোয়াব স্বাগত জানিয়েছে। বোর্ডের এই পদক্ষেপে ক্রিকেটাররা আশার আলো দেখছেন। নাসির বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। যতটুকু বুঝলাম, খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ এবং আগামী পাঁচ থেকে দশ বছর পর খেলোয়াড়রা কোথায় থাকবে, বোর্ড সেদিকেই বেশি জোর দিচ্ছে। আমাদের কাছে যে প্রস্তাব এসেছে, তা খারাপ মনে হয়নি।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে আশানুরূপ পারিশ্রমিক না পাওয়ায় ক্রিকেটাররা আগে থেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে ছিলেন। এর ওপর এবার বিপিএল মাঠে না গড়ানোর বিষয়টি তাদের পেশাদার জীবনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখতে বিপিএলের দেড় মাসের ফাঁকা সময়ে বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট বা এনসিএল টি-টোয়েন্টি আয়োজনের আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে পুরো মৌসুমের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি তৈরির দাবি উঠেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ক্রিকেটাররা নিশ্চিতভাবেই সুরক্ষিত থাকবেন। সবাই সমাধানের অপেক্ষায় আছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের সংকট নিয়ে বোর্ডের অবস্থান স্মরণ করিয়ে দেন নাসির হোসেন। নাসির বলেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের বিষয়টি তো পুরোপুরি ক্লাবের সঙ্গে খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত চুক্তির ব্যাপার। এর দায় ক্রিকেট বোর্ডের নয়। তবে খেলোয়াড়দের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কীভাবে পূরণ করা যায়, সেটি নিয়েই আমরা বোর্ডের সাথে কথা বলছি।’ নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে নাসির বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকলে ক্রিকেটারদের জন্য অনেক সুবিধা হয়। কোন মাসে কী খেলা বা টুর্নামেন্ট থাকবে, তা আগে থেকেই জানা যাবে। এমন উদ্যোগ নেয়া হলে সব খেলোয়াড়ই স্বাগত জানাবে।’