মালয়েশিয়ায় ২০১৮ সালে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দেশের নারী ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত এটি সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপর দুই আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০২২ সালে পঞ্চম হওয়ার পর ২০২৪ সালে সেমিফাইনালে থামে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের যাত্রা। এবার ফাইনালে খেলার লক্ষ্য টাইগ্রেস অধিনায়কের। সেই পথের শুরুটা হচ্ছে আজ। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাত সাড়ে ৮টায় ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হচ্ছে দু’দল।
এশিয়া কাপকে সামনে রেখে দুবাই যাওয়ার আগে মিরপুর শেষ বাংলা স্টেডিয়ামে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করে বাংলাদেশ। ক্যাম্পে ফিটনেস ট্রেনিং, স্কিল ও ট্রেনিংং সেশনের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ম্যাচ ফিটনেস যাচাই করে নিতে নিজেদের মধ্যে প্রন্তুতি ম্যাচ খেলেন সোবহানা মোস্তারি-মারুফা আক্তাররা। সবমিলে এশিয়া কাপের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশের মেয়েরা। টুর্নামেন্টে নিজেদের লক্ষ্য জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘আমরা এটাকে (এশিয়া কাপ) সামনে রেখে অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি এবং আমি মনে করি প্রত্যেকবার আসলে আমরা সেমি পর্যন্ত গিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়। আমাদের এবারের টার্গেটটা এরকমই থাকবে যেন আমরা ফাইনাল খেলতে পারি এবং অবশ্যই বাংলাদেশকে যেন আরেকটা কিছু সেলিব্রেশন করার একটা উদ্দেশ্য দিতে পারি।’ ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টপঅর্ডারের ব্যর্থতা, জ্যোতির উপর নির্ভরশীলতা ও বোলিং ফিল্ডিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাবে গ্রুপপর্বের গণ্ডি পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ।
তবে চার ম্যাচের দুটিতে জয় পেয়েছিল টাইগ্রেসরা। এশিয়া কাপে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চাননা জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে যাতে এবার সেই ভুলগুলো না হয় এবং আমরা ভালো মানসিকতা নিয়ে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে মুখিয়ে আছি।’ টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ১২৮ ম্যাচ খেলেছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। এক সেঞ্চুরিসহ ২৭.৯২ গড়ে করেছেন ২৬৫৩ রান। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনআপের অন্যতম অস্ত্র তিনি। বোলিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম সবচেয়ে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। ১০৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২৩ উইকেট শিকার করা এ স্পিনার আইসিসি মাসসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জিতেছেন। দুবাইয়ের স্পিন বান্ধব উইকেটে বোলিং বৈচিত্র্য দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটারদের কাবু করতে পারেন নাহিদা। তবে চোটের কারণে বাঁহাতি পেসার ফারিহা আক্তার তৃষ্ণার না থাকা টাইগ্রেসদের জন্য বড় ধাক্কা।
তার বদলে জায়গা করে নিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার ফারজানা ইয়াসমিন। শক্তি ও অভিজ্ঞতার বিচারে ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। আইসিসির বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে টাইগ্রেসরা। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া রয়েছে ২২তম স্থানে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মেয়েদের যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে। এরপর ১৫১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে ২০১৯ সালে অভিষেক হওয়া ইন্দোনেশিয়া সবমিলিয়ে ৭৯টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছে। স্কোয়াডের গড় বয়স ২২ বছর।
তাদের তুলনায় অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। এবারের আসরে টাইগ্রেসরা রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে টাইগ্রেসদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে, ‘এ’ গ্রুপে লড়বে পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান, হংকং ও থাইল্যান্ড। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী দুই গ্রুপের শীর্ষ দলগুলো জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে। আর ১৩ই সেপ্টেম্বর ফাইনালের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এই লড়াই।
