সেমিফাইনালের মঞ্চে জ্বলে উঠতে পারেননি ব্যাটাররা। স্কোরবোর্ডেও ছিল না বড় সংগ্রহ। তব্ুও ছাড় দেননি বোলাররা। ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও এক উইকেটে হারে বাংলাদেশ এইচপি দল। ফাইনালে ভিক্টোরিয়া একাডেমিকে ২৫ রানে হারিয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পঞ্চম আসরের শিরোপা জেতে অ্যাডিলেড ক্রিকেট একাডেমি। ফাইনালে খেলার স্বপ্ন অধরা থেকে গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি রহস্যময় স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। প্রথম সেমিফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে ইরফান শুক্কুরের দল। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ইনিংসের প্রথম বলে জীবন পান। জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি এ ডানহাতি ব্যাটার। ৫ বলে ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
তিনে নামা আরিফুলকে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালান জিসান আলম। দলীয় ৪৯ রানে আরিফুল বিদায় নিয়ে ভাঙে ২৩ রানের জুটি। পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে ৫৬ রান তোলে বাংলাদেশ। ২০ বলে ৩০ রান করে জিসান সাজঘরে ফেরার পর ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। ১৪ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষদিকে আবু হায়দার রনি ১২ ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ১০ রানের ইনিংস ভর করে ১০১ রানে থামে এইচপির ইনিংস। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ওপেনার হ্যারি ডিস্কনকে বোল্ড করেন স্পিনার রুবেল। আরেক ওপেনার টম রর্জাসকে ১৮ রানে ফেরান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। এক পর্যায়ে ৪ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে সহজ জয়ের পথেই ছিল ভিক্টোরিয়া। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ।
পরের ২৪ রানের মধ্যে আরও চার ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন বোলাররা। শেষ ওভারে ভিক্টোরিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান, আর বাংলাদেশকে ম্যাচ জিততে হলে নিতে হতো দুই উইকেট। প্রথম বলেই রান আউট হয়ে ফেরেন টড মার্ফি। পরের দুই বলে কোনো রান নিতে না পারায় সুপার ওভারের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেন লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড। ওভারের চতুর্থ বল কাট করে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে চার মারেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তাতেই দুই বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভিক্টোরিয়া। এই হারে শেষ চারেই থামে বাংলাদেশের যাত্রা। নয় দলের টুর্নামেন্টে মোট সাত ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ এইচপি দল। লীগ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জয় পায় ইরফান শুক্কুরের দল। অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরি ও ভিক্টোরিয়া, নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল, পাকিস্তানের হায়দরাবাদ কিংসমেন এবং নেপালকে হারিয়ে লীগ টেবিলের সেরা দুইয়ে ছিল তারা। লিগ পর্বে কেবল অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির বিপক্ষে হারে বাংলাদেশ।
সামগ্রিক পারফরম্যান্সের আলো কেড়ে নেন রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। পুরো টুর্নামেন্টে বল হাতে দেখিয়েছেন জাদু। সাত ম্যাচে তার শিকার ২৩ উইকেট। যা টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের স্পিনার জেইডন লেনক্সের (১৩ উইকেট) চেয়ে ১০ উইকেট বেশি নেন রুবেল। সেমিফাইনালে ৪ ওভারে ১৫ রানে ৩ উইকেট নেন। ব্যাটারদের মধ্যে আলো ছড়ান আরিফুল ইসলাম ও সাব্বির রহমান। সাত ম্যাচে দুই ফিফটিতে ১৩৮.৬০ স্ট্রাইকরেটে ২১৯ রান সংগ্রহ করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন আরিফুল। সমান ম্যাচে ১২৪.৩২ স্ট্রাইকরেটে ১৮৪ রান করে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন সাব্বির রহমান। তার ঝুলিতে রয়েছে দুটি ফিফটি। ২০২৪ সালে অ্যাডিলেট স্ট্রাইকার্সের কাছে ৩২ রানে হেরে রানার্সআপ হয় লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ২০২৫ সালে ১১ দলের মধ্যে নবম হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে বাংলাদেশ এইচপি দল।
